Dec 1, 2018

তিন সিটিতে কেমন প্রার্থী পেলাম

আগামী ৩০ জুলাই ২০১৮ রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিটি করপোরেশনের কার্যকারিতা বহুলাংশে নির্ভর করবে কেমন ব্যক্তিরা নির্বাচিত হন, যা আবার নির্ভর করে প্রার্থীদের যোগ্যতার ওপর। তিন সিটি করপোরেশনে আমরা কেমন প্রার্থী পেলাম?
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন, সর্বমোট ২১৭ জন; বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন, সর্বমোট ১৬০ জন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন, সর্বমোট ১৯৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন সিটিতে সর্বমোট মেয়র পদে মোট ১৯ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৮১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন; সর্বমোট ৫৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, রাজশাহীর সর্বমোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৫ জন বা ৫২.৯৯%-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫৫ জন (২৫.৩৪%)। বরিশালের সর্বমোট ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৭ জন বা ৫৬.৬১%-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩৬ জন (২৬.৪৭%)। সিলেটের সর্বমোট ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২৬ জন বা ৬৪.৬১%-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৪২ জন (২১.৫৩%)। তিন সিটি মিলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ-ি না পেরোনো প্রার্থীর হার ৪৪.৭০% (৫৪৮ জনের মধ্যে ২৪৫ জন)। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত ২৪.২৭% (৫৪৮ জনের মধ্যে ১৩৩ জন)। তিন সিটির মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার বরিশালে (২৬.৪৭%) এবং স্বল্পশিক্ষিতের হার সিলেটে বেশি (৫১.৭৯%)।
পেশার দিক থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (৬০%) ব্যবসায়ী এবং ২ জন (৪০%) আইনজীবী। সাধারণ ওয়ার্ডের ১৬০ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৫৮.১২ (৯৩ জন) ভাগের পেশাই ব্যবসা। মোট ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৫২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সিংহভাগই (৩২ জন বা ৪৬.৪২%) গৃহিণী এবং ৯ জন (১৭.৩০%) রয়েছেন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৪৮.৩৮ ভাগই (১০৫ জন) ব্যবসায়ী।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (৪২.৮৫%) ব্যবসায়ী, ১ জন (১৪.২৮%) আইনজীবী, ১ জন (১৪.২৮%) চিকিৎসক এবং ১ জন (১৪.২৮%) চাকরিজীবী। সাধারণ ওয়ার্ডের ৯৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৭৩.৪০ (৬৯ জন) ভাগের পেশাই ব্যবসা। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সিংহভাগই (১৮ জন বা ৫১.৪২%) গৃহিণী। ৭ জন (২০%) রয়েছেন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৫৮.৮০ ভাগই (৭৯ জন) ব্যবসায়ী।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন (৫৭.১৪%) ব্যবসায়ী, ১ জন (১৪.২৮%) আইনজীবী এবং ১ জন (১৪.২৮%) চাকরিজীবী। সাধারণ ওয়ার্ডের ১২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৭৪.০১ (৯৪ জন) ভাগের পেশাই ব্যবসা। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৬১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সিংহভাগই (৩৬ জন বা ৫৯.০১%) গৃহিণী। ৫ জন (৮.১৯%) রয়েছেন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সর্বমোট ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৫২.৮২ ভাগই (১০৩ জন) ব্যবসায়ী।
তিন সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের হার ৫২.৩৭% (২৮৭ জন)। তুলনা করলে দেখা যায়, নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার হার বরিশালে সবচেয়ে বেশি (৫৮.৮০%) এবং রাজশাহীতে সবচেয়ে কম (৪৮.৩৮%)।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলাসংশ্লিষ্ট রয়েছেন ৩ জন (৬০%)। সর্বমোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৮ জনের (৩১.৩৩%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৬ জনের (২১.১৯%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৪ জনের (১১.০৫%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলাসংশ্লিষ্ট রয়েছেন ৩ জন (৪২.৮৫%)। সর্বমোট ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৭ জনের (২৭.২০%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৫০ জনের (৩৬.৭৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২২ জনের (১৬.১৭%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলাসংশ্লিষ্ট রয়েছেন ৪ জন (৫৭.১৪%)। সর্বমোট ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৫ জনের (২৩.০৭%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৪ জনের (২২.৫৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৬ জনের (১৩.৩৩%) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। তিন সিটিতে তুলনা করলে দেখা যায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে মামলাসংশ্লিষ্টতার হার অধিক।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬২ জনের (৭৪.৬৫%) বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চার-পঞ্চমাংশেরও অধিক প্রার্থী স্বল্প আয়ের। বরিশাল সিটি করপোরেশনে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩ জনের (৬১.০২%) বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তিন-চতুর্থাংশই স্বল্প আয়ের। সিলেট সিটি করপোরেশনে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৩ জনের (৫৭.৯৪%) বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চার-পঞ্চমাংশই স্বল্প আয়ের।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩১ জনই (৬০.৩৬%) ৫ লাখ টাকার কম স¤পদের মালিক। অন্যদিকে কোটিপতি রয়েছেন মাত্র ৪ জন (১.৮৪%)। বরিশাল সিটি করপোরেশনে ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৮ জনই (৫০.৫০%) ৫ লাখ টাকার কম স¤পদের মালিক। অন্যদিকে কোটিপতি রয়েছেন মাত্র ১১ জন (৮.০৮%)। সিলেট সিটি করপোরেশনে ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৯ জনই (৫৫.৮৯%) ৫ লাখ টাকার কম স¤পদের মালিক। অন্যদিকে কোটিপতি রয়েছেন মাত্র ১০ জন (৫.১২%)।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে কেউই ঋণগ্রহীতা নন। সর্বমোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ১৭ জন (৭.৮৩%)। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে কেউই ঋণগ্রহীতা নন। সর্বমোট ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ১৬ জন (১১.৭৬%)। তারা সবাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন (১৪.২৮%) ঋণগ্রহীতা। সর্বমোট ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা মাত্র ১৩ জন (৬.৬৬%); তাদের মধ্যে ২ জন (১৫.৩৮%) কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ করেছেন।
আয়করের দিক থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে করের আওতায় পড়েছেন মাত্র ২ জন (৪০%)। এই সিটির সর্বমোট ২১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৬ জন (৩৩.৮২%) কর প্রদানকারী। এই ৪৬ জনের মধ্যে ২৬ জনই (৫৬.৫২%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই (৮৫.৭১%) করের আওতায় পড়েছেন। সর্বমোট ১৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৬ জন (২৭.১৮%) কর প্রদানকারী। এই ৪৬ জনের মধ্যে ৩০ জনই (৫০.৮৪%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই (৮৫.৭১%) করের আওতায় পড়েছেন। সর্বমোট ১৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৯ জন (৪৫.৬৪%) কর প্রদানকারী। এই ৮৯ জনের মধ্যে ৪৪ জনই (৪৯.৪৩%) কর প্রদান করেন ৫ হাজার টাকা বা তার কম। লক্ষাধিক টাকা কর প্রদানকারী ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই (৬৬.৬৬%) সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী।
আমরা ‘সুজন’-এর পক্ষ থেকে প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তথ্যের যে বিশ্লেষণ তুলে ধরি আমাদের প্রত্যাশা, গণমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হবে এবং কী ধরনের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সে স¤পর্কে ভোটাররা ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে মেয়র প্রার্থীসহ নিজ নিজ এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য স¤পর্কে তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এই আগ্রহ থেকেই তারা প্রার্থীদের স¤পর্কে ভালোভাবে জেনে, শুনে ও বুঝে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের সপক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তথ্যসূত্র: 
http://dainikamadershomoy.com/todays-paper/149345/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE?fbclid=IwAR3h6h1SkOZkz-bY1eEnL0hefEGfjQ0otD3LT-OP5jgWPs_f618ZMK834ts

1 comment: