May 30, 2016

ব্যাপক রক্তক্ষয়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

দলভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে নির্বাচনের পূর্বেই আমরা যে ব্যাপক সহিংসতার আশংকা করেছিলাম তা দুঃখজনক হলেও সত্যে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দফা নির্বাচনে এ পর্যন্ত ১১৩ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় আট হাজার আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৮ মে ২০১৬ অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফা নির্বাচনে দুই প্রার্থীসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন (যুগান্তর, ২৯ মে ২০১৬)। তাই এ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও নেতিবাচক অনুষঙ্গের দৃশ্যমানতার কারণে সবচেয়ে মন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়। নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ব্যাপকতা ইতিমধ্যেই সব সচেতন মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আটবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন চলছে নবমবারের নির্বাচন। আমাদের দেশে নির্বাচন সম্পর্কে জনমনে এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, নির্বাচন একদিকে যেমন উৎসবের আবহ তৈরি করে, পাশাপাশি কখনও কখনও তা প্রার্থী, দল ও সমর্থকদের অসহিষ্ণুতার কারণে সহিংসতার উপলক্ষ হিসেবেও অবির্ভূত হয়। আর এই সহিংসতা অনেক মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোর প্রাণহানির তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩ ও ১৯৯২-এ প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১৯৮৮ সালে ৮০ জন, ১৯৯৭ সালে ৩১ জন, ২০০৩ সালে ২৩ জন এবং ২০১১ সালে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায় (ইত্তেফাক, ৪ এপ্রিল ২০১৬)। অতীতের নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১৯৮৮ সালে। অথচ এখন পর্যন্তই চলমান নির্বাচনে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন।
আগের অন্য নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা হয়েছিল শুধু নির্বাচনের দিনে। কিন্তু এবার নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ হচ্ছে এবং তা চলছে দীর্ঘমেয়াদিভাবে। প্রাণহানির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পূর্বে ১০ জন, প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিন ১১ জন, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর থেকে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১১ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন ৯ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পর থেকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১৭ জন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন ৫ জন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১০ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের দিন ৮ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ২০ জন এবং পঞ্চম দফা নির্বাচনের দিন ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত নিহত ১১৩ জনের মধ্যে নির্বাচন-পূর্ব সংঘর্ষে ৪৫ জন, নির্বাচনকালীন সংঘর্ষে ৪৮ জন এবং নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, আগে নির্বাচনে সহিংসতা হতো আন্তঃদলীয়। কিন্তু এবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহিংসতা হচ্ছে অন্তর্দলীয়, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চম দফা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ৪২টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩টি ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে।
বর্তমানে নির্বাচনী সহিংসতা অনেকটা পৈশাচিক রূপ লাভ করেছে। সর্বশেষ পঞ্চম দফা নির্বাচন চলাকালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল উদ্দিন। অর্থাৎ সহিংসতার মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূলে বিরাজমান আমাদের সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য যে দারুণভাবে বিনষ্ট হচ্ছে তা অনেকটাই স্পষ্ট, যা আমাদের কারও কাম্য হতে পারে না।
স্বভাবতই প্রশ্ন আসে যে, কী কারণে এই ব্যাপক সহিংসতা? আমি মনে করি, এর দুটো কারণ রয়েছে। একটি হল- ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রাপ্তরা ধরে নিচ্ছেন যে তারাই জিতবেন, সেজন্য তারা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহ্য করতে পারছেন না। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মনোভাব থেকে নির্বাচনকে গ্রহণ না করে যে কোনো মূল্যেই জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই নির্বাচনী সহিংসতার বড় কারণ। আর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেও পার পেয়ে যাওয়া এবং এ ব্যাপারে নির্বাচনের কমিশনের নির্বিকার ভূমিকাও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ।
মূলত আমাদের নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে। ২৮ মে ২০১৬, বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘মারামারি করছে স্থানীয় পর্যায়ে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে এর দায় নেবে? যারা মারামারি করছে এই দায় তাদেরই।’ অথচ এ দায় নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাশেম মামলার (ডিএলআর ৪৫, ১৯৯৩) রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা যা করা করণীয়, তার সবই করতে পারবে, এমনকি আইন ও বিধি-বিধানের সংযোজনও করতে পারবে।
আজ আমাদের উপলব্ধিতে আনা দরকার যে, নির্বাচনে যদি সহিংসতা বন্ধ না হয় তাহলে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকেই এর পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তাই সহিংসতা ছাড়া সামনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন ছাড়াও সরকারকেও এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয়া এবং ব্যাপক দলীয়করণের বলয় থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘৃণ্য সহিংসতা বন্ধে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকেও জোর আওয়াজ তোলা দরকার।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ৩০ মে ২০১৬
দলভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে নির্বাচনের পূর্বেই আমরা যে ব্যাপক সহিংসতার আশংকা করেছিলাম তা দুঃখজনক হলেও সত্যে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দফা নির্বাচনে এ পর্যন্ত ১১৩ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় আট হাজার আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৮ মে ২০১৬ অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফা নির্বাচনে দুই প্রার্থীসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন (যুগান্তর, ২৯ মে ২০১৬)। তাই এ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও নেতিবাচক অনুষঙ্গের দৃশ্যমানতার কারণে সবচেয়ে মন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়। নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ব্যাপকতা ইতিমধ্যেই সব সচেতন মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আটবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন চলছে নবমবারের নির্বাচন। আমাদের দেশে নির্বাচন সম্পর্কে জনমনে এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, নির্বাচন একদিকে যেমন উৎসবের আবহ তৈরি করে, পাশাপাশি কখনও কখনও তা প্রার্থী, দল ও সমর্থকদের অসহিষ্ণুতার কারণে সহিংসতার উপলক্ষ হিসেবেও অবির্ভূত হয়। আর এই সহিংসতা অনেক মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোর প্রাণহানির তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩ ও ১৯৯২-এ প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১৯৮৮ সালে ৮০ জন, ১৯৯৭ সালে ৩১ জন, ২০০৩ সালে ২৩ জন এবং ২০১১ সালে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায় (ইত্তেফাক, ৪ এপ্রিল ২০১৬)। অতীতের নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১৯৮৮ সালে। অথচ এখন পর্যন্তই চলমান নির্বাচনে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন।
আগের অন্য নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা হয়েছিল শুধু নির্বাচনের দিনে। কিন্তু এবার নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ হচ্ছে এবং তা চলছে দীর্ঘমেয়াদিভাবে। প্রাণহানির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পূর্বে ১০ জন, প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিন ১১ জন, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর থেকে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১১ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন ৯ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পর থেকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১৭ জন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন ৫ জন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১০ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের দিন ৮ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ২০ জন এবং পঞ্চম দফা নির্বাচনের দিন ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত নিহত ১১৩ জনের মধ্যে নির্বাচন-পূর্ব সংঘর্ষে ৪৫ জন, নির্বাচনকালীন সংঘর্ষে ৪৮ জন এবং নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, আগে নির্বাচনে সহিংসতা হতো আন্তঃদলীয়। কিন্তু এবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহিংসতা হচ্ছে অন্তর্দলীয়, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চম দফা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ৪২টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩টি ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে।
বর্তমানে নির্বাচনী সহিংসতা অনেকটা পৈশাচিক রূপ লাভ করেছে। সর্বশেষ পঞ্চম দফা নির্বাচন চলাকালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল উদ্দিন। অর্থাৎ সহিংসতার মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূলে বিরাজমান আমাদের সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য যে দারুণভাবে বিনষ্ট হচ্ছে তা অনেকটাই স্পষ্ট, যা আমাদের কারও কাম্য হতে পারে না।
স্বভাবতই প্রশ্ন আসে যে, কী কারণে এই ব্যাপক সহিংসতা? আমি মনে করি, এর দুটো কারণ রয়েছে। একটি হল- ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রাপ্তরা ধরে নিচ্ছেন যে তারাই জিতবেন, সেজন্য তারা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহ্য করতে পারছেন না। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মনোভাব থেকে নির্বাচনকে গ্রহণ না করে যে কোনো মূল্যেই জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই নির্বাচনী সহিংসতার বড় কারণ। আর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেও পার পেয়ে যাওয়া এবং এ ব্যাপারে নির্বাচনের কমিশনের নির্বিকার ভূমিকাও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ।
মূলত আমাদের নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে। ২৮ মে ২০১৬, বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘মারামারি করছে স্থানীয় পর্যায়ে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে এর দায় নেবে? যারা মারামারি করছে এই দায় তাদেরই।’ অথচ এ দায় নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাশেম মামলার (ডিএলআর ৪৫, ১৯৯৩) রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা যা করা করণীয়, তার সবই করতে পারবে, এমনকি আইন ও বিধি-বিধানের সংযোজনও করতে পারবে।
আজ আমাদের উপলব্ধিতে আনা দরকার যে, নির্বাচনে যদি সহিংসতা বন্ধ না হয় তাহলে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকেই এর পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তাই সহিংসতা ছাড়া সামনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন ছাড়াও সরকারকেও এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয়া এবং ব্যাপক দলীয়করণের বলয় থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘৃণ্য সহিংসতা বন্ধে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকেও জোর আওয়াজ তোলা দরকার। - See more at: http://www.jugantor.com/sub-editorial/2016/05/30/35004/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%95-%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%A6-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%A8#sthash.W3WCGkrY.qvLbH7oI.dpuf

No comments:

Post a Comment