Apr 8, 2016

ব্যাপক দলীয়করণের বলয় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে : ড. বদিউল আলম মজুমদার

অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী ড. বদিউল আলম মজুমদার ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তিনি নাগরিক সংগঠন ‘সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটোল ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’তেও কনসালটেন্ট ছিলেন। 
-------------------
যুগান্তর : ইতিমধ্যে দু’দফায় ১ হাজার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক এ নির্বাচনের তাৎপর্য কী?

ড. বদিউল আলম মজুমদার : ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়াটা জরুরি ছিল, কারণ এর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী আমাদের প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকাটা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া নির্বাচন না হলে পরিষদ গঠিত হয় না এবং পরিষদ গঠিত না হলে সংবিধান লংঘন হয়। আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাধ্যতামূলক। তাই এ নির্বাচনগুলো সময়মতো হচ্ছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। এজন্য আমরা সরকারকে ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

এ নির্বাচন সম্পর্কে অনেক রকম অভিযোগ উঠেছে। অনেক রকম অনিয়ম-কারচুপির কথা, সহিংসতার কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কিছু নিবেদিতপ্রাণ ও ভালো মানুষ নির্বাচিত হয়ে আসতে পেরেছেন, এটাও নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং জনকল্যাণে সম্পৃক্ত তারা নির্বাচিত হওয়া মানেই গণতান্ত্রিক অবকাঠামো সুদৃঢ় হওয়া। হোক সেটা সংখ্যায় অতি নগণ্য। সুতরাং এটা অবশ্যই আরেকটা ইতিবাচক দিক। এর সঙ্গে যদিও অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিও নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে যাই ঘটুক না কেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার জন্য সুদিন আসবে এবং এ সুদিন আসাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ হল জনগণের দোরগোড়ার সরকার। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য হল স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান করা। বলতে গেলে দেশের প্রায় সব সমস্যাই স্থানীয় পর্যায়ের। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন থেকে শুরু করে আইনশৃংখলা রক্ষা করা এসব সমস্যাই স্থানীয়। এর সমাধানও স্থানীয়ভাবেই করা দরকার। স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমেই আমরা কার্যকর ও টেকসই সমাধান করতে পারব। এটা আমাদের সাংবিধানিক আকাক্সক্ষাও।

যুগান্তর : স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি?

ড. মজুমদার : স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সরকারেরও যথেষ্ট ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি। জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা ও সফলতার পাশাপাশি সরকারের নীতি কাঠামো যদি সঠিক থাকে তাহলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী হবেই।

যুগান্তর : স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক কোনটি বলে মনে করেন?

ড. মজুমদার : স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এরা যেহেতু তৃণমূলের বা জনগণের দোরগোড়ার সরকার, তাই এর মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। যেসব সমস্যা জনগণের জীবন মানে প্রভাব ফেলে সেই সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে তারা কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টির উল্লেখ আছে। এছাড়াও জনগণের কাছে সেবা পৌঁছানো এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

যুগান্তর : দলভিত্তিক বা দলীয় প্রতীকে দুই ধাপের নির্বাচনে বড় দাগে কী ধরনের প্রভাব ও প্রবণতা লক্ষ করেছেন?

ড. মজুমদার : এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। দলভিত্তিক নির্বাচনে কয়েকটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে একটি প্রবণতা হল, দলভিত্তিক নির্বাচনের ফলে তৃণমূল পর্যায়েও মনোনয়ন বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে। যেটা আগে তেমন একটা লক্ষ করা যায়নি। মনোনয়ন বাণিজ্য আমরা শুধু সংসদ নির্বাচনেই লক্ষ করেছি। ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য বেশ উঁচু স্তরে হয় এবং হয়েছে সেটা আমরা জানি। মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই আমাদের সংসদ এখন ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বিরাজনীতিকরণ ঘটেছে- রাজনীতিকদের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ বিষয়টি এখন তৃণমূল পর্যায়ের ইউপি নির্বাচনেও চলে এসেছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের কারণে এমনটি হয়েছে বলেই আমার ধারণা। এ মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে যেভাবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন কলুষিত হচ্ছে, ঠিক সেভাবেই এখন স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আমার বিশ্বাস।

যুগান্তর : এ নির্বাচনে যদি মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েই থাকে তাহলে সেটাকে প্রার্থীরা কীভাবে নিয়েছেন বলে মনে করেন?

ড. মজুমদার : এবারের ইউপি নির্বাচনে অনেক প্রার্থীই মনোনয়ন বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই এ প্রক্রিয়ায় অর্থ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা আসলে পরিস্থিতির শিকার বা ভিকটিম। দলীয়ভিত্তিক নির্বাচন করার ফলে টাকা-পয়সা খরচ করে মনোনয়ন কিনতে হল। স্বেচ্ছায় নয়, অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা এটা মেনে নিয়েছেন। এতে করে অনেক নিবেদিতপ্রাণ, ক্লিন-ইমেজের প্রার্থী টাকা-পয়সার অভাবে বা টাকা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন কিনতে অনাগ্রহের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এটা অবশ্যই দুঃখজনক।

যুগান্তর : নির্বাচনে যে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ড. মজুমদার : নির্বাচনে সহিংসতা ঘটে; কিন্তু এবারের নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রাটি ছিল বেশ ভয়াবহ। দুই পর্বে নির্বাচনী সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যাও বিশাল। এবারের নির্বাচনী সহিংসতার মাত্রাটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অদ্যাবধি এ সহিংসতা চলছে। যেটা অতীতে দেখা যায়নি। যা হোক, এ সহিংসতার মাধ্যমে যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছ, এটি তৃণমূল পর্যায়ের সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যকে দারুণভাবে বিনষ্ট করবে বলে আমার ধারণা। এ সহিংসতার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল সহিংসতার অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে হয়েছে। তাদেরই রক্ত ঝরছে। তারা নিজেরাই এর ভিকটিম হয়েছেন এবং এর মাশুল দিচ্ছেন।

যুগান্তর : এটা কেন হয়েছে?

ড. মজুমদার : কারণ ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেলেই নির্বাচিত হয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সোনার হরিণটার জন্যই এ মনোনয়ন বাণিজ্য, মারামারি-কাটাকাটি, সহিংসতার উদ্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আসলে আমাদের রাজনীতি বহুলাংশে কলুষিত হয়ে গেছে, এটি একটি লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়ে গেছে। রাজনীতি এখন জনকল্যাণের পরিবর্তে ফায়দা লোটার মাধ্যম হয়ে গেছে।

যুগান্তর : এ নির্বাচনে বিরোধী দল তথা সব দলের অংশগ্রহণকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ড. মজুমদার : এ নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীরা ছাড়া অন্যান্য দলের এমনকি মহাজোটের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তারা নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারেননি। এ নির্বাচনে এটিও একটি ব্যতিক্রমী দিক। অতীতে এ ধরনের একচ্ছত্র নির্বাচনী প্রভাব ছিল না। সব দলেরই কম-বেশি অংশগ্রহণ ছিল। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

যুগান্তর : এ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. মজুমদার : এ নির্বাচনে যেসব অন্যায় ঘটেছে সেটি কোনো রাখঢাক না রেখেই ঘটেছে। এবার ব্যালট বাক্স ভর্তি তথা কারচুপির ঘটনা আগের রাতে ঘটেনি, নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যেই ঘটেছে। এগুলো নির্বাচনী অপরাধ এবং এসব অপরাধী কারও প্রতি কোনো তোয়াক্কা করেনি। এগুলো ছিল অভাবনীয় ও অকল্পনীয়। এটিও এ নির্বাচনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এসবের প্রায় সবই ঘটেছে দলভিত্তিক নির্বাচনের জন্য।

যুগান্তর : সরকার হঠাৎ করেই তৃণমূল পর্যায়ে দলভিত্তিক বা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কেন নিল? এর উদ্দেশ্য কী বলে আপনি মনে করেন?

ড. মজুমদার : এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সুশীল সমাজ সরকারকে বারবার সাবধান করেছে। আমি নিজেও আমার বক্তব্য ও লেখায় বারবার সরকারকে সতর্ক করেছি যে, এ রকম একটি সিদ্ধান্ত ভয়াবহ জটিলতা সৃষ্টি করবে। ক্ষমতাসীন দল ও সরকারকেই এর মাশুল গুনতে হবে বেশি। তারাই এর সবচেয়ে বড় ভিকটিম হবে। তারপরও সরকার কেন এ সিদ্ধান্ত নিল? এর দুটি সম্ভাব্য উত্তর- ১. এটি সরকারের অর্বাচীন সিদ্ধান্ত হতে পারে। আসলে আমাদের দেশের দলগুলোর অভ্যন্তরে কোনো আলাপ-আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। দলের উঁচু মহল থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, সেটাই পরবর্তী পর্যায়ে কার্যকর হয়ে যায়। সুতরাং এ সিদ্ধান্তটি একটি অর্বাচীন সিদ্ধান্ত হতে পারে। ২. আবার অনেকে মনে করেন যে, এটি একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। সর্বস্তরে ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণের বলয়কে আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। যেমন, বর্তমান সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ আছে নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের ওপর। একই সঙ্গে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতাসীন দল জেলা পরিষদেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সংবিধান লংঘন করে ও উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদের ওপর সংসদ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকার আইন করে সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা বানিয়েছে এবং পরিষদের জন্য তাদের উপদেশ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করেছে। সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং ফজলে কবির বছর দশেক আগে একটি রায় দিয়েছিলেন। রায়টি হল সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়াটা সংবিধানের লংঘন। এছাড়াও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমেও ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণের বলয় উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনেও ক্ষমতাসীন দল তাদের নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করেছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পৌরসভার ওপরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন তারা ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। সার্বিক বিচারে অনেকেই বলছেন, ক্ষমতাসীন দল সব প্রতিষ্ঠানে তাদের ক্ষমতা বলয় বিস্তৃত করতেই এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যেটাই হোক, দলীয়ভিত্তিক নির্বাচনের ফলে মনোনয়ন বাণিজ্য, সহিংসতা, বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিতি ও ক্ষমতাসীনদের বেপরোয়া ভাব ইত্যাদি ঘটেছে। যেগুলো অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। আর এসব কারণে আমি এ নির্বাচনকে ‘বিকৃত’ বা perverted নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছি। এ ব্যাপারে সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব বদরুল হায়দার চৌধুরীর একটি বিখ্যাত রায় রয়েছে। রায়টি হল, ভোটারবিহীন বা বিকৃত নির্বাচন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। অতএব, এ নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক হুমকিস্বরূপ।

যুগান্তর : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখছি, তার সঙ্গে আগের অন্যান্য নির্বাচন কমিশনগুলোর মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য লক্ষ করা যায়?

ড. মজুমদার : ২০১৪ সালের পর থেকে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেগুলো বর্তমান কমিশনেরই ব্যর্থতার ফল। কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষ যখন আস্থা হারায় তখন গণতন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই হুমকির মুখে পড়ে।

পূর্বেকার নির্বাচন কমিশনের মধ্যে হুদা কমিশন কৃতিত্বের সঙ্গে অনেকগুলো নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছে। ওই নির্বাচনগুলোতেও দ্বন্দ্ব-হানাহানি ছিল, তবে সেটা অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে। শুধু তাই নয়, ওই নির্বাচনগুলোও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাছাড়া হুদা কমিশনের আমলেই সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। তাদের আমলে নির্বাচনী বিধি-বিধানে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হয়েছে। যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তাই হুদা কমিশন বেশ কৃতিত্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিয়েছে। তার আগে ছিল আজিজ কমিশন। আজিজ কমিশন তাদের ব্যর্থতার গ্লানি মাথায় নিয়ে বিদায় নিয়েছে। তবে বর্তমান কমিশন আমাদের যতটুকু ক্ষতি করেছে আজিজ কমিশনের মাধ্যমে ততটা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতার অভিযোগ ছিল এবং এ অভিযোগ অনেকটাই ন্যায়সঙ্গতও ছিল। অবশ্য আজিজ সাহেব একজন ভালো ও যোগ্য বিচারক ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে তিনি তার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তারা ভোটার তালিকায় এক কোটির বেশি ভুয়া ভোটার সংশোধনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তারা বর্তমান কমিশনের মতো আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেননি। যা হোক, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অপারগতা, অদক্ষতা ও নিরপেক্ষহীনতার মাশুল এ জাতিকে অনেক দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে। এ থেকে সহজে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। কারণ নির্বাচন হল নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া। আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ না হওয়া মানে অশান্তির দিকে ধাবিত হওয়া। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের দেশে শান্তি বিরাজ করবে কিনা তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় রয়েছে।

যুগান্তর : এই দুই দফা নির্বাচনকে যদি আমরা আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে চাই তাহলে আপনার দৃষ্টিতে সেটা কী দাঁড়াবে?

ড. মজুমদার : নির্বাচন মানেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠ-নিরপেক্ষভাবে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার অনুষ্ঠান। এটাই হচ্ছে সাংবিধানিক আকাঙ্ক্ষা। এখন প্রশ্ন হল, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মানদণ্ড কী? সুষ্ঠু নির্বাচনের কতগুলো মানদণ্ড রয়েছে। একটি হল- ভোটার তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করা। তাই ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় মানদণ্ড হল- নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তারা নির্বিঘ্নে নিরাপদে যাতে প্রার্থী হতে পারেন তার সুব্যবস্থা করা। তৃতীয়টি হল- নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে। চতুর্থত, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভয়ভীতিহীনভাবে ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা থাকা। পঞ্চম মানদণ্ডটি হল- পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া। এ পাঁচটি মানদণ্ডের সবকটি যদি একটা একটা করে বিশ্লেষণ করি, তাহলে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর একটিও আমরা পাইনি। অতএব, সার্বিক মূল্যায়নে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। এক কোটি জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে কর্মরত আছেন। তাদের বেশিরভাগই পুরুষ। তাদের একটি বিরাট অংশ কিন্তু ভোটার নয়। যার ফলে আমাদের ভোটার তালিকায় নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা এবং ২০০৮ সালে তাই হয়েও ছিল। ২০০৮ সালেই নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা হয়েছে, সেখানে ১৪ লাখেরও বেশি নারী ভোটার ছিল পুরুষের তুলনায়। কিন্তু ২০১৫ সালে যে হালনাগাদ হল সেই হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ৪৭ লাখের মতো নতুন ভোটার যুক্ত হন যেখানে নারী-পুরুষের একটা ব্যবধান দেখা দেয়। সেই ব্যবধানটি ছিল শতকরা হিসেবে ৫৬ পুরুষ এবং ৪২ জন নারী। অর্থাৎ সেখানে নতুন ভোটারদের মধ্যে ১২ শতাংশ নারী ভোটার কমে আসে। এটি হতে পারে না। নিশ্চয়ই এর ভেতরে কোনো গলদ ছিল। গণমাধ্যমে এসেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করার কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। কিছু জেলায় যেমন ফেনীতে ৩২ শতাংশেরও বেশি জেন্ডার গ্যাপ পরিলক্ষিত হয়। সেখানে শতকরা হিসেবে ৩৬ ভাগ নারী ও ৬৮ ভাগ পুরুষ ভোটার তালিকায় হালনাগাদ করা হয়। এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম সূত্রে আমরা যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি তাতে নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হয়নি বলেই প্রতীয়মান। কেননা অনেক জায়গায় বিরোধী দল তাদের প্রার্থী দিতে পারেনি। কারণ বিরোধী দলের অনেকেই পলায়নপর ছিল কিংবা জেলে রয়েছে। তাছাড়া ভোটাররাও অনেক জায়গায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা-অরাজকতা মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে। ভোটাররা যদি ভোটই দিতে না পারে তাহলে এ প্রহসনেরই বা দরকার কী?

যুগান্তর : নির্বাচনে যারা কারচুপি অনিয়ম, বিশৃংখলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করেন?

ড. মজুমদার : না, নির্বাচনে যারাই অসদাচরণ-বিশৃংখলা করেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এখানে অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে গেছে, যেটা জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে একের পর এক দলীয় সরকার সমর্থিত বা নিজস্ব লোকেরা ক্ষমতায় আসছে এটা জাতির জন্য একটি অশনিসঙ্কেত। কেননা বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। বিরোধী দল না থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। আর সরকার স্বেচ্ছাচারী হলে এর পরিণতি হয় ভয়াবহ। আমরা গত কয়েকটি নির্বাচনে যা দেখলাম সেটা হচ্ছে ক্ষমতাসীনরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে একচ্ছত্রভাবে। নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপি-বিশৃংখলা ইত্যাদি যথারীতি হয়েছে। এ অব্যবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে পুরো জাতি এক অনিশ্চিত গন্তব্যে নিপতিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যুগান্তর : এ রকম একটি অবস্থার মধ্যেও কোনো আশার বাণী রয়েছে কি?

ড. মজুমদার : কবির ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, ‘মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।’ যেহেতু এ নির্বাচনে সরকারদলীয় মেজরিটি ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হয়েছেন, তাই সরকার যদি ইচ্ছে করে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের সর্বাত্মক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে, তাহলে জাতির জন্য অবশ্যই এটি একটি ইতিবাচক দিক হয়ে দাঁড়াবে। তা না হলে এমনিতেই যেভাবে তুষের আগুন জ্বলা শুরু হয়েছে এ আগুন বাড়তে বাড়তে এক সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সুতরাং সরকারের উচিত হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বায়ত্তশাসনসহ সব রকম সুযোগ-সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রদান করা। তাহলে ইউনিয়ন পরিষদগুলো কার্যকর হওয়ার পথটি সুগম হবে। সরকারের কাছে এটাই আমাদের সবার কায়মনো বাক্যে আবেদন।

যুগান্তর : প্রথম দুই দফার ফলাফলে আমরা বিএনপির ভরাডুবি দেখলাম। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই এই ভরাডুবি, নাকি প্রকৃতপক্ষেই তৃণমূলে দলটির জনসমর্থন কমেছে?

ড. মজুমদার : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নামে আছে। কিন্তু বাস্তবে আছে কিনা সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। রাজনৈতিক দল মানে নীতি-আদর্শবেষ্টিত স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক দল। রাজনৈতিক দল মানে দায়বদ্ধ দল। আমাদের দেশে এ ধরনের রাজনৈতিক দল নেই বললেই চলে। আমরা দলভিত্তিক নির্বাচন করছি যেখানে দল অনুপস্থিত। আমাদের দলগুলো মূলত সিন্ডিকেটের মতো আচরণ করে। রবীন্দ্রনাথ আফসোস করে বলেছিলেন, বাঙালি দলাদলিই করতে পারে, দল গড়তে পারে না। তিনি নিতান্তই একটি খাঁটি কথা বলেছেন। সত্যিকার অর্থেই দলভিত্তিক নির্বাচনের আগে আমাদের দলগুলোকে একটি বাস্তবভিত্তিক শক্তিশালী দলে পরিণত করতে দলগুলোতে সংস্কার করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা আমরা করতে ব্যর্থ হয়েছি।

বিএনপির বর্তমানে যে দুর্বল অবস্থা এর অন্যতম কারণ হল দলের ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা। এ দলের মধ্যে অন্য কারও মালিকানাও নেই। যার ফলে এ নির্বাচনে অসঙ্গতি, অসন্তুষ্টি থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ করার জন্য দলের কেউ এগিয়ে আসছে না। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কী নেয়নি সেটার গুরুত্ব নিরূপণ করা দুরূহ। কিন্তু বিএনপির বর্তমান অবস্থার জন্য বহুলাংশেই বিএনপিই দায়ী। সেই সঙ্গে সরকারের দমনপীড়ন তো আছেই। সত্যিকার অর্থেই বিএনপির মধ্যে নেতাকর্মীদের কোনো মালিকানা নেই। সুতরাং এ মুহূর্তে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর চাবিটি তাদের হাতেই। তারা যদি দলটিকে পুনর্গঠন করে এবং দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত করে তাহলে সরকারের বাধা-দমনপীড়ন এসব কিছুই মোকাবেলা করতে পারবে। তখন বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থাও সৃষ্টি হবে।

যুগান্তর : আগামী কয়েক ধাপের নির্বাচন কেমন হতে পারে বলে আপনার ধারণা?

ড. মজুমদার : আমাদের নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে। কোনো ধরনের দায় তারা গ্রহণ করবে না বলেও বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু এ দায়টি তাদের। তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। এ কাজের জন্য তারা শপথ নিয়েছে। এর পরে তারা যখন দায় নেবে না বলে, তখন তাদের দ্বারা আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। তারা যখন বলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা পাচ্ছে না, এতে তাদের চরম ব্যর্থতাই প্রকাশ পায়। সামনের নির্বাচনগুলোকে যদি সামনে রেখে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হয়, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকেই এখন গভীরভাবে ভাবতে হবে এর পরিণতি নিয়ে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সংলাপ ও আলাপ-আলোচনা হতে পারে। যদি নির্বাচনী এ অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি তাহলে পুরো জাতিকেই এর মাশুল দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সরকারকে ব্যাপক দলীয়করণের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারের সর্বাত্মক নিরপেক্ষ সহযোগিতা এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকারিতাই আমাদের আগামী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার পথকে ত্বরান্বিত করবে।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. মজুমদার : আপনাদেরও ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ০৫ এপ্রিল, ২০১৬
০৫ এপ্রিল, ২০১৬
অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী ড. বদিউল আলম মজুমদার ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তিনি নাগরিক সংগঠন ‘সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটোল ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’তেও কনসালটেন্ট ছিলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : - - See more at: http://www.jugantor.com/window/2016/04/05/23154#sthash.X84rOaOJ.dpuf

No comments:

Post a Comment