Jan 31, 2016

সরকার ঘরে ঘরে ‘মারামারি’ নিয়ে যাবে

ড. বদিউল আলম মজুমদার। একজন অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ। কাজ করছেন দেশী-বিদেশী বেশকিছু উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে। নাগরিক সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি।

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তার সঙ্গে কথা হয় পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকমের। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- দলীয় প্রতীকে কেমন হতে পারে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন? এর উত্তরে তিনি বললেন, সরকার ঘরে ঘরে মারামারি নিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে বললেন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নানা দিক নিয়েও।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিক মাহমুদ। ছবি তুলেছেন দ্বীপময় চৌধুরী ডিউক।

পূর্বপশ্চিম: প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

বদিউল আলম মজুমদার: ইতিবাচক না নেতিবাচক তা নির্ভর করে এর দ্বারা কোনো উপকার বা অপকার হচ্ছে কিনা তার ওপর। আমি এটার কোনো উপকারিতা দেখি না।

পূর্বপশ্চিম: বিষয়টি পরিষ্কার হলো না-

বদিউল আলম মজুমদার: স্থানীয় সরকারকে বলা হয় ‘তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বাহন’। দলীয় প্রতীকে _MG_1399নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার আরও বিস্তৃতি ঘটবে কি না বা কার্যকর হবে কি না- সেটি দেখতে হবে। আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে এর দ্বারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরো কার্যকর ও শক্তিশালী হবে কিনা? যদি এটা হয় তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন সমর্থনযোগ্য।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখা সাংবিধানিক অঙ্গীকার। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হবে। পাশাপাশি জন-শৃঙ্খলা রক্ষা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। তাই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এসব কাজে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি রাখে তবে এটা সমর্থনযোগ্য।

কিন্তু সম্পতি শেষ হওয়া দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচনে দেখা অভিজ্ঞতার আলোকে দেখি, এটি তৃণমূলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখবে না। গণতান্ত্রিক শাসন মানে জনগণের সম্মতির শাসন। আর এটা অর্জিত হয় যখন জনগণের প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করে। দলীয় বা নির্দলীয় হোক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এর দায়িত্ব নিতে পারেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ওপর গণতান্ত্রিক শাসন কার্যকর, বিস্তৃত বা প্রতিষ্ঠিত করা নির্ভর করে না। এই যুক্তিতে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার  নির্বাচনের কারণ দেখি না।

আরেকটি হলো, এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে কিনা? সেখানেও কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। বরং এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হতে পারে। যার ফলে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। তখন হিতে বিপরীত হবে।

পূর্বপশ্চিম: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আর কি সংকট দেখা দিতে পারে?

বদিউল আলম মজুমদার: দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের মাধ্যমে আরও যেটা ঘটবে, তৃণমূলে অশুভ প্রতিযোগিতা, দলবাজি ও দলতন্ত্র মানসিকতার বিস্তৃতি ঘটবে। তৃণমূলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পৌরসভা নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে অনেকটা দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দলগুলো। কিন্তু ইউপি নির্বাচন আরও বিস্তৃত হওয়ায় এই কাজটি কঠিন হবে। ফলে দলের অভ্যন্তরেই হানাহানি, সংঘাত ও হাঙ্গামার আশঙ্কা থেকে যায়। যেমন ২৭ জানুয়ারি নারায়নগঞ্জের এমপি শামিম ওসমানের সামনেই একই দলের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সমর্থকরা দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। আগে হানাহানি হতো নির্বাচনের দিনে। এখন নির্বাচনের এতো আগে থেকেই এটা শুরু হয়েছে।

পৌর নির্বাচনে ২০ দিনে (৭ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫) ৫০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একদিনে ১১টি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে অনেক ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাননি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় মার্কার কারণে জনসমর্থন অর্জন করা নিরপেক্ষ সমাজকর্মী মনোনয়ন পাবেন না। আলাদা নির্বাচন করেও তারা সুবিধা করতে পারবেন না। তাই নির্বাচন থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেবে। ফলে প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। যেমন, ২০১১ সালে পৌরসভা প্রতি গড় মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ছিলো ৫ দশমিক ১১। কিন্তু এবার তা কমে ৪ জনে নেমে এসেছে। তাও আবার কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার ফলে।

পূর্বপশ্চিম: দলীয় প্রতীকে নির্বাচন কি জনগণ প্রত্যাশা করে?

বদিউল আলম মজুমদার: ক্ষমতাসীনরা ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিলে দেখবেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত। আমরা এটি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সরকারেরই অনেক এমপি-মন্ত্রীরা চান না এসব নির্বাচন দলীয়ভাবে হোক। এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

পূর্বপশ্চিম: মেয়র দলীয় আর কাউন্সিলর নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন, এটাকে কিভাবে দেখেন?

বদিউল আলম মজুমদার: এটা একটি জগাখিচুরি নিয়ম। নির্বাচন কমিশন কোন বিবেচনায় করছে তা আমার বুঝে আসে না। আসলে এটি একটি স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত। এই নিয়মের ফলে হবে কি, একমাত্র চেয়ারম্যানেরই একক ক্ষমতা থাকবে। কাউন্সিলরদের মতামত ও চিন্তা তেমন বিবেচিত হবে না।

পূর্বপশ্চিম: নির্বাচনের আগে ও পরে গণগ্রেফতারকে কি সঠিক মনে করেন?

_MG_1391বদিউল আলম মজুমদার: পৌরসভা নির্বাচনের আগে বহু বিরোধীদলীয় সমর্থকদের গ্রেফতার করার একটা সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মামলা দিয়ে ও গ্রেফতার করে বরখাস্ত করা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের পরে কিছু কিছু জায়গায় নব নির্বাচিত বিরোধী দলীয় সমর্থক জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হয়েছেন।  অথচ ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধি অনেকের বিরুদ্ধে মামলা থাকার পরও তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এটা বদলানো দরকার। ইউপি নির্বাচনের আগে ও পরে এই নীতি বহাল থাকলে বিষয়টি আরও প্রকট হতে পারে।

পূর্বপশ্চিম: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘সরকারি সুযোগ ব্যবহার করা যাবে’ না শর্তে এমপিরা তাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় যেতে পারবেন। এটা কতটুকু মানা সম্ভব হবে?

বদিউল আলম মজুমদার: কোনোভাবেই এটি যৌক্তিক নয়। কারণ এমপিরা তো পদ আর পদবি রেখে প্রচারণায় যেতে পারবেন না। একজন এমপি কোনো ইউনিয়নে গেলে তার প্রভাব পড়বেই। ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে বেশি সুবিধা নেবেন। তারা যে প্রার্থীর পক্ষে যাবেন বা সম্মতি দিবেন তাকেই নির্বাচিত করা হবে। এটা অন্যান্য প্রার্থীদের বেলায় সামঞ্জস্যতা হারাবে।

পূর্বপশ্চিম: পৌরসভা নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তুলনায় আরও বেশি বিস্তৃত পরিসরে। সেক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কি নির্বাচন কমিশন?

বদিউল আলম মজুমদার: পৌরসভা নির্বাচনে দেখেছি, কমিশনের কর্মকর্তা যারা রিটার্নিং ও সহকারি অফিসার হয়েছিলেন তাদের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ ছিলো প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কমিশনের কথা শোনেননি। এবারেও তেমনি হলে সে সমস্যাগুলো রয়েই যাবে। তবে এবারে কয়েকটি ধাপে নির্বাচন হবে শুনলাম। তাতে কিছুটা হলেও এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু বড় সমস্যাটা হলো, দেশের সর্বস্তরে ব্যাপক দলীয়করণ  করার ফলে এর প্রভাব নির্বাচনে পড়বেই। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটা বিরাট বাধা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নতো আছেই।

পূর্বপশ্চিম: এবারো কি নির্বাচন কমিশন একই পথে হাঁটছে?

বদিউল আলম মজুমদার: সম্প্রতি সমাপ্ত পৌর নির্বাচনেও কমিশনের নিম্নমুখি তৎপরতা দেখা গেছে। অনেক অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়ার পরেও কমিশন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর ব্যাতিক্রম হবে এটা আশা করতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা তো আশাকে নিরাশায় পরিণত করে। যদি নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হতো, তবে ক্ষমতাসীনদেরও একাধিক প্রার্থী থাকতো। ফলে প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের সমর্থিত কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারতো না। সে সুবিধাটা অন্য প্রার্থীরাও ভোগ করতো।

পূর্বপশ্চিম: বিশ্বের অন্যান্য দেশেতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এক্ষেত্রে সুফল না পাওয়ার কি কারণ?

বদিউল আলম মজুমদার: ওসব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের ভিন্নতা রয়েছে। আমরাতো সুষ্ঠু নির্বাচনই করতে পারি না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় বিধায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর দলীয়ভাবে করতে হলে সেরকম যথাযথ দলও থাকতে হয়। যথাযথ মানে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধ দল। সেরকম দল আমাদের গড়ে ওঠেনি। টিআইবির জরিপেও দেখা গেছে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের সবচেয়ে বড় আখড়া। তাই দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের আগে দলের সংস্কার করা দরকার।

পূর্বপশ্চিম: তাহলে এমন সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের কোনো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি আছে কি?

বদিউল আলম মজুমদার: সরকারের ক্ষমতার বলয় ও প্রভাবটা আরও বিস্তৃত হতে পারে। দেশের প্রত্যন্ত
এলাকা পর্যন্ত তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। যেটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতে হয়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেলে এই বিষয়টির চরম ঘাটতি হবে। আর সরকার স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার যে যুক্তি দেখাচ্ছে, সেটি সুষ্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা সহকারে জাতির সামনে উপস্থাপন করুক।

পূর্বপশ্চিম: দলের বাইরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কি সম্ভব?

বদিউল আলম মজুমদার: গণতন্ত্রে দল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দলবাজি, দলতন্ত্র, দলের প্রতি অন্ধত্ব গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যেমন, দলকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম এর মধ্যে মারামারি লেগেই আছে। সবকিছু দলীয়করণ হওয়ায় দলবাজিটা এখন সবস্তরে পৌঁছবে। ফলে সরকার ঘরে ঘরে ‘মারামারি’ নিয়ে যাবে।

পূর্বপশ্চিম: জাতীয় নির্বাচনে জোটগত আর স্থানীয় পর্যায় জোটের বাইরে। এটা রাজনৈতিক দলগুলোর জোটের শর্তানুসারে কতটা গণতান্ত্রিক?

বদিউল আলম মজুমদার: বাস্তবতা হলো দেশে প্রধান দুটি দল (আওয়ামী লীগ-বিএনপি)। পরের সারিতে যে দুটি দল আছে, তার একটির (জামায়াত) নিবন্ধন বাতিল ও অন্যটি (জাতীয় পার্টি) বিলুপ্ত প্রায়। তাই প্রধান দল দুটো অন্যদের প্রয়োজনীয়তা তেমন দেখছে না। আর জোটতো লোক দেখানো। দ্বিতীয় সারির দলের সঙ্গে কিছু সুবিধা থাকে, এর বাইরে এটার তেমন গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই জোটের শর্ত পূরণ এখন বিবেচ্য বিষয় নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

পূর্বপশ্চিম: ইউপি নির্বাচনে সবদল অংশ নেবে বলে কি আপনি মনে করেন?

বদিউল আলম মজুমদার: সব দলের অংশ নিয়ে লাভটা কি? অনেকের সমর্থন নেই বললেই চলে। দলীয় প্রতীকে প্রধান তিনটি দল নির্বাচনে অংশ নেবে। জামায়াত হয়তো স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে। আর অন্যান্য দলগুলো কিছুটা করতেও পারে। তাতে কিছু যায় আসে না।

পূর্বপশ্চিম: সরকার যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন হবে। তাই সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নেয় সেক্ষেত্রে সরকার কি ভূমিকা নিতে পারে?

বদিউল আলম মজুমদার: নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে অহেতুক মামলা, গ্রেফতার, হুমকি-ধামকি, হয়রানি এসব বন্ধ করা। দলীয়করণের কারণে কমিশন চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না, সরকার যদি না চায়।

পূর্বপশ্চিম: তার মানে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে?

বদিউল আলম মজুমদার: নির্বাচন কমিশন একটা পর্যায় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। যদি তারা সাহসিকতা প্রদর্শন করে এবং সে যোগ্যতা থাকে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, তারা কাজকর্মে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ সংবিধান প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছে, তারা সেটি প্রয়োগ করছে না। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে কত অভিযোগ আসলো, সহিংসতা হলো। নির্বাচন কমিশন এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যায় করে পার পেয়ে গেলে বারবার সে কাজ করতে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়।

পূর্বপশ্চিম: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এটাকে যথেষ্ট মনে করছেন?

বদিউল আলম মজুমদার: নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে এই বাজেট ও ব্যয় নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলবেই। তাই এই ব্যয়টা যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থেই করা হয়। সময়মতো নির্বাচন হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের পক্ষে জনমত থাকবে।

পূর্বপশ্চিম: স্বাধীনভাবে স্থানীয় সরকারকে কাজ করতে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কি করণীয়?

বদিউল আলম মজুমদার: বিরোধীদলের জনপ্রতিনিধিদের অহেতুক মামলা ও গ্রেফতার করে বরখাস্ত না করা। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব দিতে হবে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বৈষম্য করা না হয়। সর্বোপরি সরকারের আন্তরিকতার ওপরই সব সফলতা নির্ভর করছে। নতুবা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আরও বেশি সমস্যার জন্ম দেবে।
 
তথ্যসূত্র: http://www.purboposhchimbd.news
http://www.purboposhchimbd.news/2016/01/31/%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF/

No comments:

Post a Comment