May 1, 2015

নির্বাচন নিরপেক্ষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ না হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনগণ তাদের ক্ষোভ-অভিযোগ প্রকাশের সুযোগ হারিয়েছে উল্লেখ করে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ফলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা আমাদের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এটি আমাদের জন্য অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বুধবার আমাদের সময় ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এবং গত তিন মাসের সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে অনেক মানুষই সংক্ষুব্ধ। তাদের অনেক অভিযোগ-ক্ষোভ রয়েছে। একমাত্র সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনরায়ের মাধ্যমেই এসব ক্ষোভ-অভিযোগ প্রশমিত করার উপায় ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এ নির্বাচন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হয়নি। সংক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে পারে।

বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অনিশ্চয়তা ছিল, এ নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে কী হবে? আমাদের ধারণা ছিল এই অনিশ্চয়তা দূর হবে। কিন্তু নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময় ডটকমের কাছে সমালোচনা করেন।


বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে যেসব আশঙ্কা ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল, নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে কি-না। কিন্তু সেই আশঙ্কা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। কারণ নির্বাচন কমিশন তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি।

নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক গুরুদায়িত্ব অনুধাবন করে কি-না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। যদি অনুধাবন করতো তাহলে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করত।

তিনি মনে করেন- এ নির্বাচনের মাধ্যমে দুটি প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বড় পরাজয় হয়েছে। এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্যও বড় পরাজয়। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের পরাজয়।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ক্ষমতাসীন দল ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণ বিতর্কিত নির্বাচনের সুযোগ করে দেয়া। আর বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণ নির্বাচন বর্জন করা। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত, সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারেননি।

বদিউল আলম মজুমদার আশা প্রকাশ করেন- যদিও বিতর্কিত নির্বাচন কিন্তু কয়েকজন ভাল মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের দিকে মনযোগী হবেন।

তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন ভাল মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও নির্বাচন বিতর্কিত। আমরা আশা করব তারা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের দিকে নজর দেবেন, দুর্নীতি মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। সিটি করপোরেশনকে দলীয় লোকদের প্রতিষ্ঠানে নয়, জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন।

তথ্যসূত্র: 
http://www.amadershomoys.com/newsite/2015/04/29/274936.htm#.VURRX_CGNyx

No comments:

Post a Comment