May 11, 2014

গুম-খুনের মাশুল দিতে হবে দেশকেই

বাংলাদেশে গুম, খুন, অপহরণ বেড়েছে- এ নিয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কারও কারও মতে, সার্বিক পরিস্থিতি কেবল উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সম্ভবত নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যাচ্ছে। অপরাধ জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহল রীতিমতো বেসামাল হয়ে পড়েছে- গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এমন ধারণাও করা হয়। 

আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্রে অপরাধের ঘটনা জানতে পারি। টেলিভিশন সংবাদেও গুরুতর অপরাধের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। দিনদুপুরে অপহৃত হচ্ছে মানুষ। কিন্তু এদের উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় না।


অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কাজেও তারা উৎসাহী বলে মনে হয় না। রোববার ঢাকার একটি দৈনিকে পুলিশ বাহিনীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পাওয়া যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেটা চরম উদ্বেগ সৃষ্টি না করে পারে না।

তাদের হিসাবেই অপরাধ পরিস্থিতি গুরুতর। বিশেষ করে অপহরণ বেড়ে চলেছে। ২০১১ সালে অপহৃত ছিল ৭৯২ জন। ২০১২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৫০ জন। ২০১৩ সালে অপহৃত হয়েছেন ৮৭৯ জন। ২০১৪ সালের প্রথম তিন মাসেই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৯৬টি। নারায়ণগঞ্জের লোমহর্ষক সেভেন মার্ডার এবং পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের অপহরণের ঘটনা এ হিসাবের বাইরে রয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অবশ্য ভিন্ন। তারা বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অপহৃত হয়েছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের পর ছেড়ে দেওয়া হয় ২৪ জনকে। পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে ১৪ জনকে। আর ১৮৭ জনের কোনো খোঁজই মেলেনি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ৩৯ জনকে অপহরণ করা হযেছে। এদের মধ্যে ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী সৌভাগ্যবান।

তাকেসহ ৪ জনকে অপহরণকারীরা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বাকি ২৩ জনের হদিস নেই। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, তারা যে তথ্য পেয়েছেন তার উৎস সংবাদপত্র ও টেলিভিশন। অপহরণ ও গুমের অনেক তথ্য গণমাধ্যমে আসে না।

প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী র‌্যাবের জনসংযোগ শাখায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪১ জনকে অপহরণের অভিযোগ আসে। এদের মধ্যে এক হাজার ৮৭ জনকে র‌্যাব উদ্ধার করেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ সংস্থা ৭৭ জন অপহৃতকে উদ্ধার করেছে। অন্যদের খবর তাদের জানা নেই।

আমরা এটাও জানি যে, গণমাধ্যমে যেমন অপরাধের সব খবর আসে না, তেমনি অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আরও ক্ষতির আশঙ্কা থেকে বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ করা হয় না কিংবা সংবাদপত্রে জানানো হয় না। অপহৃত হওয়ার পর মুক্তিপণ দিয়ে অনেকে ফিরে আসেন, কিন্তু সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বীকার করতে চায় না।

যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা এবং চলাফেলা নিশ্চিত করার বিষয়টি মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : 'আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।' ৩৬ অনুচ্ছেদে রয়েছে চলাফেরার স্বাধীনতার প্রসঙ্গ। এতে বলা হয় : 'জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধসাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।'

আমরা জানি, আবু বকর সিদ্দিক, নজরুল ইসলাম ও চন্দন সরকারের মতো পরিচিত ব্যক্তি চলাফেরা করতে গিয়েই অপহৃত হয়েছেন। নজরুল ইসলাম তার নিরাপত্তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটা অবগত। তিনি নিরাপত্তার শঙ্কা থেকেই নিজের শহর ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছিলেন। অপহরণের দিন তিনি নারায়ণগঞ্জের আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন স্থানে তার সেদিনের অবস্থানস্থল জানিয়ে রাখেন। স্পষ্টতই তার চলাফেরার অধিকার দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

আমরা জানি যে আইন করে মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় না। এ অধিকার আইনের দ্বারা বলবৎযোগ্য। কেউ চাইলে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

যেভাবে অপহরণ, গুম ও খুনের ঘটনা ঘটছে তা থেকে ধারণা করা যায় যে, আইনের শাসন পদদলিত হচ্ছে। অনেকেই এখন আতঙ্কিতবোধ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করছেন। সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ স্বস্তির জন্য যাদের দ্বারস্থ হয় তাদের নামে যদি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে, তার চেয়ে উদ্বেগের কিছু থাকে না।

আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কোনো বাহিনীর কোনো সদস্যই নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নের কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নয়। যদি প্রকৃতই এমনটি ঘটে তার চেয়ে গর্হিত অপরাধ আর কিছুই হতে পারে না। এমনটি একটি ঘটনা হলেও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাকে বা যাদের পাওয়া যাবে তার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এমনটি ঘটতে দেখছি না।

হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে কেন, সে প্রশ্ন সঙ্গত। সরকারি দলের অনেক শীর্ষ নেতা দাবি করছেন, তারা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধীদের আন্দোলনও অনেকটাই স্তিমিত। তাহলে কেন এমন নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারছে? এর প্রধান কারণ সম্ভবত বিতর্কিত নির্বাচন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে বৈধ, কিন্তু নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়- এমনটিই দেশ-বিদেশে অভিমত।

এ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ভোটারদের মতামত প্রদানের সুযোগ আদৌ প্রায় ছিল না। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের ভেতরেও অনেকে মনে করেন যে, ওই নির্বাচন ছিল কেবল মুখ রক্ষার জন্য, নিয়ম রক্ষার জন্য। সন্দেহ নেই যে, এ ধরনের নির্বাচনের কারণে সরকার নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এখন নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বলপ্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটা যেমন রাজধানী ঢাকার জন্য, তেমনি সমগ্র দেশের জন্য প্রযোজ্য।

অপহরণের ঘটনা এ ধরনের বলপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই অনেকের ধারণা। কোথাও কোথাও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে এবং এটা খণ্ডন করার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ সংশ্লিষ্টদের তরফে আমরা দেখতে পাই না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কেউ সরকারের হয়ে অপরাধ করতে থাকলে এক পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে নিজের স্বার্থেও ক্রমে অপরাধ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নিজের সুবিধার জন্য অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং তা ভয়ঙ্কর রূপও নিতে পারে। সরকার এ প্রক্রিয়ায় যাদের কাজে লাগায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করার নৈতিক অধিকার এক পর্যায়ে হারিয়ে ফেলে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এসব অপরাধ সংঘটিত করছে, তেমন বক্তব্য খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। প্রধান বিরোধী দলের অনেক নেতা এখন জেলে। কেউ কেউ জামিনে মুক্ত। একদল বারবার কারাগারে যাওয়া-আসা করছেন। সরকার প্রতিবাদের কণ্ঠ আদৌ সহ্য করতে চাইছে না। এমনকি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সড়কে মানববন্ধন পালন করতেও পুলিশের বাধাদানের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অসহিষ্ণুতা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয় না।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির অশুভ উত্তরাধিকারও আমরা বহন করে চলেছি। বহু বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বিচার কাজও দুই দশক ধামাচাপা ছিল। জিয়াউর রহমান এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের বিচারও আমরা দেখিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি অপরাধীদের উৎসাহিত করে। তারা মনে করে, অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন তারা পার পেয়ে যাবে।

অপরাধে সংশ্লিষ্টদের মামলা প্রত্যাহারের নজিরও ভূরি ভূরি এবং সরকারের আমলেই এটা ঘটছে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তখন কয়েক হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায়। মামলা থেকে মুক্ত হওয়াদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্টরাও ছিল। এ ধরনের গর্হিত কাজ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি খুনের মতো অভিযোগে কঠোর দণ্ডপ্রাপ্তরাও এর আওতায় আসছে। আরও দুর্ভাগ্যজনক যে, এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের ব্যাপক সমালোচনার পরও তাতে সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করছেন বলে মনে হয় না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতিও মোটেই ভালো নয়। বিশেষ করে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদৌ জ্ঞানচর্চার পাদপীঠ বলে বিবেচিত হচ্ছে না। এগুলোতে হানাহানি লেগেই আছে এবং এর কারণ সম্পূর্ণ শিক্ষাবহির্ভূত। ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী কিছু যুবক ক্যাম্পাসকে টেন্ডার সন্ত্রাসের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। রাজনীতির কারণে ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি অপরাধকর্ম হিসেবে স্বীকৃত। কিছু লোকের কারণে শিক্ষাজীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও এ জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না।

অথচ আমাদের দণ্ডবিধি ১৫৩-খ অনুযায়ী সরকার এটা করতে পারে। এতে বলা হয়েছে :ÔWhoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representations, or otherwise, induce or attempts to induce any student, or any class of students, or any institution interested in or connected with students, to take part in any political activity which disturbs or undermines, or is likely to disturb or undermine, the public order shall be punished with imprisonment which may extend to two years or with fine, or with both.

দুঃখজনকভাবে আমরা সমাজে এখন নতুন একটি শ্রেণী দেখছি যারা সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকছে। তারা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলে। আইনকে সর্বদা বুড়ো আঙুল দেখায় এবং সাত খুন করলেও জানে যে কেউ তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না। এ প্রবণতা ভয়াবহ। নারায়ণগঞ্জের নূর হোসেনকে আমরা এ দলেই ফেলতে পারি। তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা হয়েছিল নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে। যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে সময়মতো আমলে নিত, তাহলে সাত খুনের ঘটনা হয়তো না-ও ঘটতে পারত।

একের পর এক অপহরণ, গুম, খুন হচ্ছে কিন্তু কেউ শাস্তি পাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ভয়ঙ্কর অপরাধও নিত্যদিনকার ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে, এমন শঙ্কা প্রবল। যাদের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধের মাধ্যমে নিজেরা বিপুলভাবে লাভবান হতে পারে। এর ফলে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তাদের আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে যথেষ্ট এবং তা আরও হয়তো বাড়ানো যায়। কিন্তু ইতিমধ্যেই নৈতিক কর্তৃত্ব খর্ব হয়ে পড়েছে এবং তার পুনরুদ্ধার প্রকৃতই কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা ব্যর্থ রাষ্ট্রের কথা শুনি। তেমন পরিণতি আমাদের প্রিয় স্বদেশ ভূমির জন্য কেউ কামনা করে না। কিন্তু সরকারের নৈতিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্নম্ন হলে দেশ সেই পথে এগিয়ে যেতে পারে, এমন শঙ্কা অমূলক নয়।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটনায় কেউ কেউ কিন্তু ২০০০ সালের আলামতও দেখতে পাচ্ছেন। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে ভালোভোবেই দেশ পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে দেশের কতিপয় স্থানে গডফাদাররা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির জন্য এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেবার কিছু লোকের জন্য আওয়ামী লীগ মাশুল দিয়েছিল। এবারে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে জানি না। কিন্তু অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটলে পুরো দেশকে যে কঠিন মূল্য দিতে হবে সেটা নিশ্চিত।

আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্রে অপরাধের ঘটনা জানতে পারি। টেলিভিশন সংবাদেও গুরুতর অপরাধের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। দিনদুপুরে অপহৃত হচ্ছে মানুষ। কিন্তু এদের উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় না।

অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কাজেও তারা উৎসাহী বলে মনে হয় না। রোববার ঢাকার একটি দৈনিকে পুলিশ বাহিনীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পাওয়া যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেটা চরম উদ্বেগ সৃষ্টি না করে পারে না।

তাদের হিসাবেই অপরাধ পরিস্থিতি গুরুতর। বিশেষ করে অপহরণ বেড়ে চলেছে। ২০১১ সালে অপহৃত ছিল ৭৯২ জন। ২০১২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৫০ জন। ২০১৩ সালে অপহৃত হয়েছেন ৮৭৯ জন। ২০১৪ সালের প্রথম তিন মাসেই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৯৬টি। নারায়ণগঞ্জের লোমহর্ষক সেভেন মার্ডার এবং পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের অপহরণের ঘটনা এ হিসাবের বাইরে রয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অবশ্য ভিন্ন। তারা বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অপহৃত হয়েছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের পর ছেড়ে দেওয়া হয় ২৪ জনকে। পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে ১৪ জনকে। আর ১৮৭ জনের কোনো খোঁজই মেলেনি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ৩৯ জনকে অপহরণ করা হযেছে। এদের মধ্যে ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী সৌভাগ্যবান।

তাকেসহ ৪ জনকে অপহরণকারীরা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বাকি ২৩ জনের হদিস নেই। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, তারা যে তথ্য পেয়েছেন তার উৎস সংবাদপত্র ও টেলিভিশন। অপহরণ ও গুমের অনেক তথ্য গণমাধ্যমে আসে না।

প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী র‌্যাবের জনসংযোগ শাখায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪১ জনকে অপহরণের অভিযোগ আসে। এদের মধ্যে এক হাজার ৮৭ জনকে র‌্যাব উদ্ধার করেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ সংস্থা ৭৭ জন অপহৃতকে উদ্ধার করেছে। অন্যদের খবর তাদের জানা নেই।

আমরা এটাও জানি যে, গণমাধ্যমে যেমন অপরাধের সব খবর আসে না, তেমনি অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আরও ক্ষতির আশঙ্কা থেকে বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ করা হয় না কিংবা সংবাদপত্রে জানানো হয় না। অপহৃত হওয়ার পর মুক্তিপণ দিয়ে অনেকে ফিরে আসেন, কিন্তু সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বীকার করতে চায় না।

যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা এবং চলাফেলা নিশ্চিত করার বিষয়টি মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : 'আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।' ৩৬ অনুচ্ছেদে রয়েছে চলাফেরার স্বাধীনতার প্রসঙ্গ। এতে বলা হয় : 'জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধসাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।'

আমরা জানি, আবু বকর সিদ্দিক, নজরুল ইসলাম ও চন্দন সরকারের মতো পরিচিত ব্যক্তি চলাফেরা করতে গিয়েই অপহৃত হয়েছেন। নজরুল ইসলাম তার নিরাপত্তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটা অবগত। তিনি নিরাপত্তার শঙ্কা থেকেই নিজের শহর ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছিলেন। অপহরণের দিন তিনি নারায়ণগঞ্জের আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন স্থানে তার সেদিনের অবস্থানস্থল জানিয়ে রাখেন। স্পষ্টতই তার চলাফেরার অধিকার দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

আমরা জানি যে আইন করে মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় না। এ অধিকার আইনের দ্বারা বলবৎযোগ্য। কেউ চাইলে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

যেভাবে অপহরণ, গুম ও খুনের ঘটনা ঘটছে তা থেকে ধারণা করা যায় যে, আইনের শাসন পদদলিত হচ্ছে। অনেকেই এখন আতঙ্কিতবোধ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করছেন। সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ স্বস্তির জন্য যাদের দ্বারস্থ হয় তাদের নামে যদি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে, তার চেয়ে উদ্বেগের কিছু থাকে না।

আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কোনো বাহিনীর কোনো সদস্যই নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নের কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নয়। যদি প্রকৃতই এমনটি ঘটে তার চেয়ে গর্হিত অপরাধ আর কিছুই হতে পারে না। এমনটি একটি ঘটনা হলেও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাকে বা যাদের পাওয়া যাবে তার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এমনটি ঘটতে দেখছি না।

হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে কেন, সে প্রশ্ন সঙ্গত। সরকারি দলের অনেক শীর্ষ নেতা দাবি করছেন, তারা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধীদের আন্দোলনও অনেকটাই স্তিমিত। তাহলে কেন এমন নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারছে? এর প্রধান কারণ সম্ভবত বিতর্কিত নির্বাচন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে বৈধ, কিন্তু নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়- এমনটিই দেশ-বিদেশে অভিমত।

এ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ভোটারদের মতামত প্রদানের সুযোগ আদৌ প্রায় ছিল না। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের ভেতরেও অনেকে মনে করেন যে, ওই নির্বাচন ছিল কেবল মুখ রক্ষার জন্য, নিয়ম রক্ষার জন্য। সন্দেহ নেই যে, এ ধরনের নির্বাচনের কারণে সরকার নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এখন নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বলপ্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটা যেমন রাজধানী ঢাকার জন্য, তেমনি সমগ্র দেশের জন্য প্রযোজ্য।

অপহরণের ঘটনা এ ধরনের বলপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই অনেকের ধারণা। কোথাও কোথাও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে এবং এটা খণ্ডন করার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ সংশ্লিষ্টদের তরফে আমরা দেখতে পাই না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কেউ সরকারের হয়ে অপরাধ করতে থাকলে এক পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে নিজের স্বার্থেও ক্রমে অপরাধ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নিজের সুবিধার জন্য অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং তা ভয়ঙ্কর রূপও নিতে পারে। সরকার এ প্রক্রিয়ায় যাদের কাজে লাগায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করার নৈতিক অধিকার এক পর্যায়ে হারিয়ে ফেলে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এসব অপরাধ সংঘটিত করছে, তেমন বক্তব্য খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। প্রধান বিরোধী দলের অনেক নেতা এখন জেলে। কেউ কেউ জামিনে মুক্ত। একদল বারবার কারাগারে যাওয়া-আসা করছেন। সরকার প্রতিবাদের কণ্ঠ আদৌ সহ্য করতে চাইছে না। এমনকি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সড়কে মানববন্ধন পালন করতেও পুলিশের বাধাদানের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অসহিষ্ণুতা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয় না।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির অশুভ উত্তরাধিকারও আমরা বহন করে চলেছি। বহু বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বিচার কাজও দুই দশক ধামাচাপা ছিল। জিয়াউর রহমান এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের বিচারও আমরা দেখিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি অপরাধীদের উৎসাহিত করে। তারা মনে করে, অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন তারা পার পেয়ে যাবে।

অপরাধে সংশ্লিষ্টদের মামলা প্রত্যাহারের নজিরও ভূরি ভূরি এবং সরকারের আমলেই এটা ঘটছে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তখন কয়েক হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায়। মামলা থেকে মুক্ত হওয়াদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্টরাও ছিল। এ ধরনের গর্হিত কাজ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি খুনের মতো অভিযোগে কঠোর দণ্ডপ্রাপ্তরাও এর আওতায় আসছে। আরও দুর্ভাগ্যজনক যে, এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের ব্যাপক সমালোচনার পরও তাতে সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করছেন বলে মনে হয় না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতিও মোটেই ভালো নয়। বিশেষ করে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদৌ জ্ঞানচর্চার পাদপীঠ বলে বিবেচিত হচ্ছে না। এগুলোতে হানাহানি লেগেই আছে এবং এর কারণ সম্পূর্ণ শিক্ষাবহির্ভূত। ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী কিছু যুবক ক্যাম্পাসকে টেন্ডার সন্ত্রাসের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। রাজনীতির কারণে ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি অপরাধকর্ম হিসেবে স্বীকৃত। কিছু লোকের কারণে শিক্ষাজীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও এ জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না।

অথচ আমাদের দণ্ডবিধি ১৫৩-খ অনুযায়ী সরকার এটা করতে পারে। এতে বলা হয়েছে :ÔWhoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representations, or otherwise, induce or attempts to induce any student, or any class of students, or any institution interested in or connected with students, to take part in any political activity which disturbs or undermines, or is likely to disturb or undermine, the public order shall be punished with imprisonment which may extend to two years or with fine, or with both.

দুঃখজনকভাবে আমরা সমাজে এখন নতুন একটি শ্রেণী দেখছি যারা সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকছে। তারা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলে। আইনকে সর্বদা বুড়ো আঙুল দেখায় এবং সাত খুন করলেও জানে যে কেউ তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না। এ প্রবণতা ভয়াবহ। নারায়ণগঞ্জের নূর হোসেনকে আমরা এ দলেই ফেলতে পারি। তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা হয়েছিল নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে। যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে সময়মতো আমলে নিত, তাহলে সাত খুনের ঘটনা হয়তো না-ও ঘটতে পারত।

একের পর এক অপহরণ, গুম, খুন হচ্ছে কিন্তু কেউ শাস্তি পাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ভয়ঙ্কর অপরাধও নিত্যদিনকার ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে, এমন শঙ্কা প্রবল। যাদের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধের মাধ্যমে নিজেরা বিপুলভাবে লাভবান হতে পারে। এর ফলে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তাদের আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে যথেষ্ট এবং তা আরও হয়তো বাড়ানো যায়। কিন্তু ইতিমধ্যেই নৈতিক কর্তৃত্ব খর্ব হয়ে পড়েছে এবং তার পুনরুদ্ধার প্রকৃতই কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা ব্যর্থ রাষ্ট্রের কথা শুনি। তেমন পরিণতি আমাদের প্রিয় স্বদেশ ভূমির জন্য কেউ কামনা করে না। কিন্তু সরকারের নৈতিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্নম্ন হলে দেশ সেই পথে এগিয়ে যেতে পারে, এমন শঙ্কা অমূলক নয়।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটনায় কেউ কেউ কিন্তু ২০০০ সালের আলামতও দেখতে পাচ্ছেন। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে ভালোভোবেই দেশ পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে দেশের কতিপয় স্থানে গডফাদাররা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির জন্য এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেবার কিছু লোকের জন্য আওয়ামী লীগ মাশুল দিয়েছিল। এবারে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে জানি না। কিন্তু অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটলে পুরো দেশকে যে কঠিন মূল্য দিতে হবে সেটা নিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: সমকাল, ০৫ মে, ২০১৪

No comments:

Post a Comment