Jan 5, 2014

হলফনামায় দেয়া তথ্য প্রকাশকে স্থগিতের সুপারিশ লুটপাটতন্ত্রের চেতনা ও ক্ষমতায় আসীন থাকার মন্ত্র: ড. বদিউল আলম মজুমদার

ড. বদিউল আলম মজুমদার। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সম্পাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি, সিয়াটল ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া কিছু প্রার্থীর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বনিক বার্তার সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এম এম মুসা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। একে কীভাবে দেখছেন? আমাদের একটা ধারণা ছিল, যারা ক্ষমতায় যায়, তারাই সম্পদশালী হয়, বিত্তশালী হয়। এবার আমরা তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণের সুযোগ পেয়েছি এবং দেখছি যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তরা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের তথ্য হলফনামা আকারে নিজেদের আয়-ব্যয়, দেনা-সম্পদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়, দেনা-পাওনা, সম্পদের উত্স এবং তাদের আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়ন এবং উচ্চ আদালতের আদেশে এসব হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবার ২০১৩-১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আবারো হলফনামা আকারে প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব প্রদান ও আয়কর রিটার্নের কপি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়েছে। আমরা কিছু কিছু ব্যক্তির সম্পদের হিসাবের বিবরণও পেয়েছি। সব পাইনি, কারণ নির্বাচন কমিশন অফিস আমাদের সেভাবে সহায়তা করেনি। এতে প্রমাণিত হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে (যেহেতু সব প্রার্থীর হলফনামা দেখার সুযোগ হয়নি) আমাদের অনুমান সঠিক হয়েছে। যারাই ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন অর্থাত্ মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি গেছেন, তাদের একটি অংশের সম্পদের স্ফীতি হয়েছে। অনেকের সম্পদ হু হু করে বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে। এসব বানোয়াট কিংবা মনগড়া নয়, তথ্যগুলো প্রার্থীদের নিজেদের দেয়া। আমরা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নই। অনেকেরই আশঙ্কা, প্রার্থীরা অনেক তথ্য গোপন করেছেন। হলফনামায় প্রদান করা অনেক তথ্য বিভ্রান্তিমূলক। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন এর সত্যতা যাচাই-বাছাই করে দেখবে এবং তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে।
সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খতিয়ে দেখা এনবিআর ও দুদকেরও দায়িত্ব বটে। তারা সেটি যথাযথভাবে পালন করছে বলে মনে করেন কি?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উভয়েরই দায়িত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করা। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনেরই আলাদা এখতিয়ার আছে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার। আরপিও অনুযায়ী যারা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এমনকি নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পরও হলফনামায় দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণ হলে তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। আরেকটা বিষয়ও দেখা প্রয়োজন, সেটি হলো অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গেই সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে; আরপিওর ১২ অনুচ্ছেদের ১২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে— যারা সরকারের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত, তারা সংসদ সদস্য হতেও পারবেন না, থাকতেও পারবেন না। এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
হলফনামায় প্রকাশিত তথ্য প্রকাশ বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, সরকারের পক্ষ থেকে এ রকম একটি জনবিরোধী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের পক্ষ থেকে এ রকম একটি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা ভাবা যায় না।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দেয়া নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে দু-দুবার মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব দাখিলের ব্যাপারে অঙ্গীকার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ‘দিনবদলের সনদ’-এ ২৩টি অগ্রাধিকার ছিল। তার মধ্যে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। সেখানে বলা আছে, ক্ষমতাধরদের সম্পদের বিবরণ দিতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।’ কিন্তু সেটা তো তারা করেনি। নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের অর্থমন্ত্রী বারবার মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেয়ার কথা বলেছেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ তার কথা রাখেনি। শুধু অর্থমন্ত্রী তার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
এখানে একটি বিষয় যোগ করা প্রয়োজন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে ‘সংসদ সদস্য আচরণবিধি’ নামক একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেছিলেন। যেখানে কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর একটি হলো প্রতি বছর সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রদান। এতে সংসদ সদস্যরা কী কী ব্যবসায় জড়িত, তার বিবরণী প্রকাশেরও বিধান রাখা হয়েছিল। আইন ও সংসদ মন্ত্রণালয়বিষয়ক কমিটি এ বিল সংসদে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করে এবং এটি পাস করার জন্য অনেক লবিংও করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুজন— সুশাসনের জন্য নাগরিক একত্রে বিলটি পাসের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ নিয়ে একাধিকবার গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে, স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
এখন শোনা যাচ্ছে, সরকারদলীয় একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গেছে এবং সুপারিশ করেছে যেন সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করা না হয়। এটা খুবই দুঃখজনক, আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যারা দাবি করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং যারা সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছিল, তারা প্রতি বছর নিজেদের সম্পদের হিসাব জমা দেবে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ হবে, তারাও আগের মতো ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে বিত্তশালী, সম্পদশালী, ক্ষমতাশালী হতে চাইছে।
আদালত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের হলফনামায় সম্পদের হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক করেছেন ২০০৫ সালে। আবদুল মতিন এবং আরো দুজন আইনজীবীর করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত এও বলেছেন, এটি জনগণের বাক স্বাধীনতা এবং সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতার একটি অংশ। কারণ ভোটের মাধ্যমে জনগণের বাক স্বাধীনতা প্রকাশ পায়, আর সেক্ষেত্রে জনগণের তথ্য পাওয়া ও জানার অধিকার আছে। অর্থাত্ এটা জনগণের অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রে বলা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার খর্বের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গেল বিএনপি সরকারের আমলে উচ্চ আদালতে রায় ঘোষণার পর সম্পূর্ণ গোপনে অর্থাত্ যারা এ-সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন, তাদের না জানিয়েই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের অনুমতি দেয়া হয়। আবু সাফা নামের এক ব্যক্তি এটি করেছিলেন। আপিলে বলা হয়েছিল, তিনি অনেক দানশীল, অল্প শিক্ষিত এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। যদি এ তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেকায়দায় পড়বেন। আসলে আপিলে সব তথ্যই ছিল ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট। আদালতও আশ্চর্যজনকভাবে আবেদনটি গ্রহণ করেছিলেন। মূল মামলায় জড়িত না হলে আদালত সাধারণত কারো লিভ টু আপিল গ্রহণ করেন না। এক্ষেত্রে তা করা হয়েছে।
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই বিচারপতি জয়নাল আবেদিনের দেয়া রায়টি স্থগিত করায় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে কোনো হলফনামা জমা দিতে হয়নি। সে সময় প্রধান বিচারপতি জে আর মোদাচ্ছের হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ আপিল আবেদন গ্রহণ করেন। ফলে হাইকোর্টের দেয়া এ-সংক্রান্ত রায় খারিজ হয়ে যায়। সুজনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন এবং তিনি আদালতে বলেন, এটা তারা করতে পারেন না, শুনানির আগেই হাইকোর্টের রায় খারিজ করতে পারেন না। ওইদিনই হাইকোর্টের রায় খারিজের আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ বলেছিলেন, এটা কোনো আপিলই হয়নি। এখন সরকার যা করছে তা ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে জনগণের বাক স্বাধীনতা খর্ব তথা তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এ উদ্যোগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এটা সম্পর্কিত নয়। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, অধিকার হরণের জন্য নয়। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। হলফনামায় দেয়া তথ্য প্রকাশকে স্থগিতের যে সুপারিশ করেছে, সেটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়, লুটপাটতন্ত্রের চেতনা, ক্ষমতায় আসীন থাকার মন্ত্র।
বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ কী বলে মনে করছেন?
বাংলাদেশ একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে আমরা প্রার্থীবিহীন, ভোটারবিহীন এমনকি দলবিহীন নির্বাচনও বলতে পারি। আমাদের দেশে ৪১টি নিবন্ধিত দল রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এটাকে প্রহসনের নির্বাচন বলতেই হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরেও এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, দেশের বাইরেও নেই। অনেকেই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা দুই হারাচ্ছি। এতে আমাদের জটিলতা আরো বাড়বে, যা আমাদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর নয়।
পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে কি?
বাংলাদেশ একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী হবে তা এ মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে এটা বলাই যায়, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর জন্য একটি উত্তম অবস্থার অবতারণা ঘটতে যাচ্ছে, যা সম্পর্কে আমাদের আরো সচেতন থাকতে হবে।
রাজনীতিতে টাকার খেলা বন্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন—
রাজনীতি এখন টাকার খেলা। এটি আরো বেড়ে যাবে সম্প্রতি সংশোধন হওয়া আরপিওর মাধ্যমে। যেখানে একদিন আগে দলে যোগ দিলেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া যাচ্ছে। আগে তিন বছর সক্রিয়ভাবে দলের সঙ্গে জড়িত থাকাসাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া যেত। অনেকেই মনে করছেন, রাজনীতিতে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই তার অনেক গুণ মুনাফা পাওয়া যায়। এটি অন্য কোনো ব্যবসায় মেলে না। এটি বন্ধের চিন্তা একমাত্র নির্বাচন কমিশনই করতে পারে। নির্বাচন কমিশন হলফনামা জমা নেয়ার পর তথ্যগুলো সঠিক দেয়া হয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। এমনকি নির্বাচনের পর তদারক করা উচিত, তাদের আয় জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত কিনা কিংবা দেয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল রয়েছে কিনা। যারা জালিয়াতি করবে, তাদের কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই রাজনীতিতে টাকার খেলা অনেকাংশেই কমে আসবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী ব্যয় হ্রাসের কিছু উদ্যোগের মাধ্যমেও টাকার খেলা কমানো যেতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রার্থীদের মিছিল, সমাবেশসহ যেকোনো ধরনের শোডাউন, পোস্টার ছাপানো ইত্যাদি থেকে বিরত রেখে নির্বাচন কমিশন পোস্টার ছাপানো, সব প্রার্থীকে নিয়ে প্রজেকশন মিটিংয়ের আয়োজন করার দায়িত্ব নিতে পারে।
রাজনীতিতে টাকার খেলা বন্ধ করতে হলে আদর্শভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার বিকল্প নেই। দলের ভেতরে সব ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অনুশীলন করতে হবে।

অনুলিখন: মুহাম্মদ হাসনি রাহফি
সূত্র: http://www.bonikbarta.com/austoprohor/2013/12/28/27093

No comments:

Post a Comment