Dec 10, 2013

রাষ্ট্রপতিকে উদ্বেগের কথা জানালেন ড.বদিউল আলম মজুমদারসহ ছয় বিশিষ্ট নাগরিক

বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ছয় নাগরিক। আজ মঙ্গলবার (নভেম্বর ২৬, ২০১৩) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা এ উৎকণ্ঠার কথা জানান।

সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিক বঙ্গবভনে পৌঁছান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক তিন উপদেষ্টা আকবর আলি খান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, সুলতানা কামাল, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার
বৈঠক শেষে পৌনে আটটার দিকে তাঁরা বেরিয়ে আসেন।


বৈঠক শেষে আকবর আলি খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখানে আসার উদ্দেশ্যে ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের এবং জাতির উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা নিবেদন করা। তাঁর কাছে নিবেদন করেছি দেশে বর্তমানে যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি চলছে, এটা দেশের জন্য অশনি সংকেত। আমরা সবাই এই পরিস্থিতি হতে পরিত্রাণ চাই। রাষ্ট্রপতি আমাদের জানান, তাঁর সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ সংকট নিরসনের জন্য তিনি সচেষ্ট আছেন এবং সচেষ্ট থাকবেন। আশা করব, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’
কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আকবর আলি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ছিল না। তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছেন কি না, এমন এক প্রশ্নের তিনি ‘না’ সূচক জবাব দেন।
কোন কোন বিষয়ে উদ্বেগ উত্কণ্ঠা জানিয়েছেন প্রশ্নে আকবর আলি বলেন, ‘নির্বাচন যে পরিবেশে হতে যাচ্ছে, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ। দেশে বর্তমানে যে অবরোধ, হরতাল এসব চলছে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ কী ঘটতে যাচ্ছে, কি হতে পারে এসব বিষয় নিয়ে।’
রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন প্রশ্নের জবাবে আকবর আলি বলেন, ‘তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই করতে পারেন না। অনানুষ্ঠানিকভাবে কথাবার্তা বলে সংশ্লিষ্টদের বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন, অভিভাবকেরা যেটা করার চেষ্টা করেন।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় হল উদ্বেগ। আমরা মনে করি প্রধান বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হলে পরে সেটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সে জন্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখতে হলে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমরা চাই।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপের পর উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছিল, সেটা আছে কি না এবং রাষ্ট্রপতি কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে আকবর আলি বলেন, ‘উনি আশ্বাস দিয়েছেন তিনি সচেষ্ট আছেন এবং সচেষ্ট থাকবেন। এটা মনে রাখতে হবে সমাধান শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে নয়। এ ব্যাপারে প্রধান জোটগুলোরও ভূমিকা রয়েছে। সে জন্য শুধু রাষ্ট্রপতিই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, সেটা মনে হয় না। তবুও তাঁর যে প্রচেষ্টা সেটা অব্যাহত রাখলে হয়তো আমরা কিছু ফল পেতেও পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে যাবেন অপর প্রশ্নে আকবর আলি বলেন, ‘এ ধরনের কোন চিন্তা ভাবনা নাই। প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন দুটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কাজেই প্রতিপক্ষের কাছে আলাপ করে সমাধান করা সম্ভব না।’
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষের মধ্যে একটা ঐকমত্য আছে। তাঁরা গণতন্ত্রকে বজায় রাখতে চায়, শান্তি চায়, সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। তাই বলেছি নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। জনমত গঠন হয়েছে। ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিভিন্ন সংকট থেকে উত্তরণ হয়েছে অতীতে। এবারও সেই আশা নিয়ে আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করে যাব।’
সুলতানা কামাল বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে আমাদের একটা রাজনৈতিক সত্তা আছে। সেটার যতটুকু অধিকার আছে, যে দায় দায়িত্ব আছে, আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে আমরা তা পালন করে যাব। আমরা আশা করতে পারি, কাজ করলে নিশ্চয়ই একটা ফল আমরা কখনো না কখনো পাব।’

সূত্র: প্রথম আলো, নভেম্বর ২৬, ২০১৩

No comments:

Post a Comment