Sep 16, 2013

ক্ষমতার রাজনীতির কারণে সংকট সংঘাতের দিকে যেতে পারে: বিবিসি সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার

গত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ শনিবার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলা আয়োজিত বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক আরও ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ফিরদৌস আজিম এবং বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বুলু্। তিনি জানতে চান সংকট নিরসনে জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশ কি গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ?

জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাচ্ছেনা। জাতিসংঘ বা অন্য যেই উদ্যোগ নিক না কে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই নিজেরাই আলোচনার ভিত্তিতেই সবাই মিলে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ সংসদের অধিবেশন চলছে। বিরোধী দল সংসদে আসবে ও তাদের প্রস্তাব দিবে। সংসদই একটা সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে"।

মি আহমেদ বলেন, "এক সময় তো আমাদেরও অন্য দেশের মতো গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যেতে হবে। আর এখন কোন দলের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়”।

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন এ ধরনের সংকটের সময় সমঝোতার বিকল্প নেই। সমঝোতায় আসতে হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সমঝোতার বিকল্প নেই। সমঝোতার মাধ্যমেই চলমান সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি শেষ পর্যন্ত এ ধরনের সংকটের একটা নিরসন হয়। শেষ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের আত্ম উপলব্ধি হবে। তবে সংসদে এ ধরনের রাজনৈতিক সংকট নিরসনের কোন সুযোগ নেই”।

একজন দর্শক বলেন, “প্রতিবারই নির্বাচনের আগে এ ধরনের সমস্যা কেন হয় ? কেন একটা রুল অব গেম আমরা ঠিক করতে পারিনা ?”

আরেকজন দর্শক বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল সমঝোতা চায় কিন্তু সংলাপে বসছেননা কেন?”

প্যানেল আলোচক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ফিরদৌস আজিম বলেন সংলাপের কোন সুযোগ বা সম্ভাবনা প্রধান দু রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছেনা। এতে জনগণ হতাশ হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি বলেন দু রাজনৈতিক দল যদি সদিচ্ছা দেখায় তাহলে হয়ত সংকটের নিরসন হতে পারে।



বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “সংকট আছে এবং এ সংকট সংঘাতের দিকে যেতে পারে। এর কারণ হল ক্ষমতার রাজনীতি অর্থাৎ যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে"।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনে হারার অবকাশ নেই এবং এর জন্য দায়ী হল রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি।

তিনি বলেন, “রাজপথে কোন সমস্যার সমাধান হয়না আর তাই চরম সংকটের সৃষ্টি হতে পারে”।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গ

 "সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে ড: ইউনুসকে একটা শাস্তি দিতে হবে যে কোন ভাবেই হোক।"

একজন দর্শক

হাবিবুল্লাহ বেলালী জানতে চান বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিরোধি দলের আপত্তি উঠা সত্ত্বেও তারা কি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবেন ?

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “তিনটি বড় দলের মধ্যে দুটিই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। রাজনৈতিক দলের অনাস্থা থাকলে এবং নাগরিক সমাজের প্রশ্ন থাকলে তারা যা-ই করুন কমিশনের কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হবে"।

তিনি বলেন, "তাছাড়া নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত নয়। তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। সরকারি দলের প্রতি তাদের আনুগত্য ও প্রীতি আছে বলে কারও কারও ধারনা। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা দুরূহ হবে”।

ফিরদৌস আজিম বলেন, “মনে হচ্ছে ২০০৬ এর পরিস্থিতিতে আছি। একটা ক্ষমতা ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে তারা স্বেচ্ছায় কেন তা ছেড়ে দিবেন। একটা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ছিল কিন্তু তার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর শক্তিশালী কমিশন আমরা পাইনি”।

একজন দর্শক বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখানে বিষয় নয়। বিষয় হলও কোন ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে”।

মওদুদ আহমদ বলেন, “নির্বাচনের সময় ডিসি এস পি সহ সরকারি কর্মকর্তারা নির্বাচনে দায়িত্ব থাকে। দলীয় সরকার থাকলে তারা কিভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে"।

তিনি বলেন, "বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তারা নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারেনি। বিএনপিকে দুই ভাগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশে কখনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি”।

তার দলের অবস্থান পুনর্ব্যাক্ত করে তিনি আরও বলেন, “কোন দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি অংশ নিবেনা”।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, “বর্তমান পদ্ধতিতে যে দলই ক্ষমতাই থাকুক না কোন দলের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান বিএনপি আমলেও সচিব ছিলেন আবার আওয়ামীলীগ আমলেও ছিলেন"।

বিরোধীদের মন্তব্য প্রত্যখ্যান করে মি আহমেদ বলেন, "বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারবে।”

ড: ইউনুস প্রসঙ্গ

এডভোকেট মোহাম্মদ শামসুদ্দিন জানতে চান কর দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ড মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত কি যুক্তিসংগত হয়েছে।

ফিরদৌস আজিম বলেন, “যুক্তিসংগত হয়েছে বলে মনে হয়না। মনে হচ্ছে ড ইউনুসের বিরুদ্ধে সরকার লেগে আছে আর এটা হলও সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ"।

তিনি বলেন, "হল মার্ক এর ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে দুদক কিছু পায়নি আর ড: ইউনুসের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে”।

একজন দর্শক বলেন, “সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে ড: ইউনুসকে একটা শাস্তি দিতে হবে যে কোন ভাবেই হোক”।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “আমার কাছে বোধগম্য নয় কেন সরকার তাকে বারবার হেনস্থা করার চেষ্টা করছে। প্রতিহিংসা পরায়নতা থেকেই এসব হচ্ছে"।

তিনি বলেন, "ট্যাক্স একটি গোপন বিষয়। এটি প্রকাশ করা যায়না। অথচ ড: ইউনুসের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে।”

মওদুদ আহমদ বলেন, “ড ইউনুসকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এটা করা হয়েছে এবং হীনমন্যতার থেকেই এটা করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য তার চরিত্র হনন”।

সুত্র: http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2013/09/130915_rh_sanglap40.shtml

No comments:

Post a Comment