Jun 6, 2013

‘সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম’

সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম। তারা উভয়ই ক্ষমতা চায়। ক্ষমতায় যাওয়া মানে পাঁচ বছরের জন্য রাজত্ব কায়েম করা। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন যতটুকু করলাম তার জবাবদিহিতার বাইরে থাকা। আর নির্বাচনে হারা মানে মামলা-হামলা। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে হারার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গত বৃহস্পতিবার বাংলাভিশনের টকশো ‘নিউজ অ্যান্ড ভিউজ’-এ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান।

ড. মজুমদার বলেন, এখন এক দল কীভাবে অন্য দলকে নিশ্চিহ্ন করবে তা নিয়ে চলছে রাজনীতি। এই ল্যাং মারার, নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি থেকে বের হয়ে জনগণের মন জয় করার রাজনীতিতে যোগ দিলে জনগণও লাভবান হবে, দলের অবস্থানও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল মনে করে, দলীয় বা অন্তর্বর্র্তী সরকারের (যেটার প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) অধীনে নির্বাচন হলে তারা জিতবে। এ অবস্থা থেকে সরে এলে তাদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। পক্ষান্তরে বিরোধী দল মনে করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার হলে তারা জিতবেন। এ ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই কেউই নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমাতে চায় না। এ কারণে তাদের এ অনড় অবস্থান। উভয় দলই মনে করছে, নিজ অবস্থানে অনড় থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। তবে নাগরিকদের মধ্যে থেকে বরাবরই একটা দাবি আছে, রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতা হবে। নির্বাচনকালীন কি রকম সরকার হবে সে ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে আগামী নির্বাচনটি নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে।

দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ড. মজুমদার বলেন, স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, সাধারণ মানুষ সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই নাগরিক সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফায়দাতন্ত্রের কারণে তারাও এখন বিভক্ত। এখন নিরপেক্ষ থাকার কঠোর মূল্য দিতে হয়। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। তাই নাগরিক সমাজের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখা কঠিন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনীতি আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা নাগরিকরা যদি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, সাধারণ জনগণ যদি সচেতন না হয়, এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা এক ধরনের প্রহসনের গণতন্ত্রের মধ্যে আছি। সংবিধানে পরিষ্কার লেখা আছে, প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রী-এমপিরা আইন প্রণয়ন করবেন, প্রশাসন চালাবেন আর জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকার শাসন পরিচালনা করবে। আমাদের জেলা পরিষদ নির্বাচন তো হয়ই না। এখন আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। গণতন্ত্র কার্যকর হলো কিনা তা নির্ভর করে দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী পাঁচ বছরে কি ঘটল তার ওপর। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো কিনা, মানুষ অন্যায়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলো কিনা এসবের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিভাত হয়। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় মানুষের মৃত্যু ও সম্পদহানির ব্যাপারে তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে টেকসই পন্থা হচ্ছে উন্নয়ন। অবকাঠামো উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারের কারণে ২০ বছর আগের চেয়ে এখন মানুষ অনেক কম মারা যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে এসব দুর্যোগ সামনে আরও প্রকট হবে। সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। উপকূলের মানুষগুলো ভোটের দিনে গুরুত্বপূর্ণ। ভোট গেলে গুরুত্বহীন। তাদের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্যোগ শেল্টারগুলো মানুষের কাছে নিয়ে আসতে হবে। ওইসব এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে বানানো দরকার। আমাদের সীমিত সম্পদও আমরা লুটপাট করছি। হলমার্কে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হলে বলা হলো, এই কয়টি টাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমন গুরুত্বহীন কিছু টাকা দিলেই উপকূলে দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮ মে ২০১৩

No comments:

Post a Comment