Jun 16, 2013

ড. বদিউল আলম মজুমদারের মন্তব্য: ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ভোটের চিত্র পাল্টে দিয়েছে

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ও দলীয় প্রভাবের কারণে চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনকে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা পুরোপুরি দলীয়করণ করেছেন। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তথা যোগ্য জনপ্রতিনিধিরা এসব নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারেননি। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,
'স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে ধর্মের কমবেশি ব্যবহার আমরা আগেও দেখেছি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু সবচেয়ে আশঙ্কার কথা- এসব নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে এবার ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। এটি স্থানীয় পর্যায়ের সুশাসনকে শক্তিশালী তো করবেই না, উল্টো আরো বাধার সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া দলীয় নির্বাচনে অনেক সময়ই 'কলাগাছ মার্কা' অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। যেমন- আমার মতে, বরিশালের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন একজন অত্যন্ত যোগ্যপ্রার্থী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। এটি খুবই দুঃখজনক।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সাধারণত এভাবে দলীয় যোগ্যতায় নির্বাচিত হলে সেসব বিজয়ী প্রার্থী সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। জয়ী হওয়ার পর তাঁরা জনগণের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তবু আমরা আশা করব, যাঁরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তাঁরা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন। সিটি করপোরেশনগুলোয় নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নেবেন।'
এর পরও চারটি সিটি নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের গোলযোগ হয়নি উল্লেখ করে সুজনের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কোথাও কোনো বড় ধরনের গোলযোগ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ফলাফলে যদি কারচুপি না হয়, তাহলে এটি সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলেই মনে করি।
নবগঠিত নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনে কতটুকু সফল তা জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিরোধী দলের দাবি সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোয় সেনা সদস্যদের মোতায়েন করা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রে অনেকটা সময়ই তারা সফল হয়নি। এ নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ইভিএম ব্যবহার করাটিও তাদের একটি সাফল্য। কিন্তু ফলাফলে যাতে কারচুপি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ইভিএম পদ্ধতির নির্বাচনে ভোট গণনা অনেক সহজ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে নির্বাচনে অত্যাধুনিক ভোট গ্রহণ পদ্ধতি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
জাতীয় নির্বাচনেও ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ সম্ভব কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন নির্বাচন পদ্ধতি তো আর মান্ধাতা আমলে পড়ে থাকতে পারে না। এ জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি, সরকারি দল নির্বাচন নিয়ে একটি কথা বললে বিরোধী দল ঠিক তার উল্টোটি বলে। কাজেই ইভিএম না সনাতন পদ্ধতির ভোটগ্রহণ হবে সে নিয়ে সব পক্ষের মতৈক্য থাকা প্রয়োজন। ভোটারদেরও নতুন প্রযুক্তিকে আস্থায় নিতে হবে। আশার কথা, অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের মতো এবার চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএম পদ্ধতির ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ
১৬ জুন, ২০১৩

No comments:

Post a Comment