May 20, 2013

পৌর নির্বাচনে কারা মেয়র নির্বাচিত হলেন

পৌর নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অসারতা প্রমাণিত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। দলভিত্তিক নির্বাচনের ফলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা ঠকেছে এবং তাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অনেক দিন পর এবং অনেক দাবির মুখে অবশেষে ১২ থেকে ২৭ জানুয়ারি কয়েক দফায় ছয়টি বিভাগের ২৫৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে ছয়টি পৌরসভায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২৪৮টি পৌরসভার নির্বাচনে ১১৬টিতে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অন্য ১০৬টিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের ২২ জন এবং বিএনপির ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়া জামায়াতের ৬, জাতীয় পার্টির ২, এলডিপির ১ জন এবং স্বতস্ত্র প্রার্থী ১৭টি মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন।

বৃহত্তর নোয়াখালীসহ কয়েকটি স্থানে নির্বাচনী সহিংসতা ছাড়া সারাদেশে মোটামুটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৌর নির্বাচনে প্রায় ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ বা ৫৮.৬৬ শতাংশ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। আর এই ৫৮.৬৬ শতাংশের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীরা পেয়েছেন প্রায় ২৪.৯৮ শতাংশ ভোট এবং বিএনপি ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীরা মিলে পেয়েছেন প্রায় ২৫.৪৯ শতাংশ, জামায়াত ০.৯৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টি ০.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ গত পৌর নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মিলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তুলনায় প্রায় এক শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছে, যা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। (দেখুন, ড. তোফায়েল আহমেদ, ‘স্থানীয় নির্বাচন ২০১১,’ ইত্তেফাক, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১।)

একটি উদ্বেগের বিষয় হলো, যতই দিন যাচ্ছে নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত এবং নির্দলীয় প্রার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ ততই যেন কমছে। তাই সজ্জনরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হন এবং তারা নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদানের আইনি বিধান করা হয়েছে। উলেল্গখ্য, ‘সুজন_ সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী বিধিবিধান অনুযায়ী, গত পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী সাত ধরনের তথ্য হলফনামা আকারে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রদান করেন। প্রার্থীরা তাদের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা/জীবিকা, অতীতে এবং বর্তমানে ফৌজদারি মামলা হয়েছে কি-না, প্রার্থী এবং প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ, প্রার্থীর ঋণ সংক্রান্ত তথ্য এবং কর প্রদানের তথ্য জমা দেন। এসব তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের ক্ষমতায়িত করা, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। মোট ২৫৯টি পৌরসভার ১ হাজার ৩২৬ জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা আকারে এসব তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করেন।

আমরা সুজনের উদ্যোগে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর তথ্য বিশেল্গষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র তৈরি করে সংশিল্গষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করেছি। একই সঙ্গে আমাদের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাব্রতীরা ৭৫টি পৌরসভায় ‘ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠানে’র আয়োজন করেছেন। ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়াও এসব অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব প্রার্থী নির্বাচনের সময় সদাচরণ (যেমন_ টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার না করার) এবং নির্বাচনে জিতলে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে মৌখিক ও লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। ভোটাররাও সৎ-যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের ভোট দেবেন বলে শপথ করেন।

প্রার্থীদের হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, মাত্র ১১ জন নারী মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীর চাটমোহর পৌরসভায় মেয়র হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী নার্গিস খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন। দিনবদলের সনদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেও দলের পক্ষ থেকে একজন নারী মেয়র প্রার্থীকেও সমর্থন দেওয়া হয়নি। বিএনপিও মাত্র একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের এ ধরনের আচরণ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

নবনির্বাচিত ২৪৭ জন মেয়রের মধ্যে নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার বিজয়ী মেয়র মোঃ ইলিয়াসের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ১১.৩৩ শতাংশ স্নাতকোত্তর, ২৫.৫০ শতাংশ স্নাতক, ২৩.৮৮ শতাংশ এইচএসসি এবং ৩৮.০৪ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি কিংবা এর নিচে। অর্থাৎ নির্বাচিতদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশির শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি কিংবা এর নিচে। সারাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ৪২.৪৫ শতাংশ স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হলেও বিজয়ী মেয়রদের ৩৬.৮৩ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত স্বল্প শিক্ষিতরাই বেশি হারে নির্বাচিত হয়েছেন।

মেয়র পদে বিজয়ীদের মধ্যে ৭৯.৭৫ শতাংশ ব্যবসায়ী, ১০.৯৩ শতাংশ কৃষিজীবী, ৫.৬৬ শতাংশ চাকরিজীবী, ২.৪২ শতাংশ আইনজীবী ও ০.৪০ শতাংশ গৃহিণী। শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীরা প্রার্থীই হননি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবসায়ীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। উলেল্গখ্য, মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ এলাকায় থাকেন না, ফলে ভোটাররা তাদের সানি্নধ্য থেকে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে। উলেল্গখ্য, মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের ৬৭.৯৪ শতাংশ ব্যবসায়ী হলেও নির্বাচিতদের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবসায়ী। অর্থাৎ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের কাছে অন্যরা পরাভূত হয়েছেন।

সম্প্রতি সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছিলেন এবং এসব ব্যক্তিই অপেক্ষাকৃত ‘ভালো’ প্রার্থীদের নির্বাচনী ময়দান থেকে বিতাড়িত করেছেন, যেমনিভাবে ‘গ্রেসামস ল’ অনুযায়ী, ‘ব্যাড মানি ড্রাইভস দি গুড মানি আউট অব সার্কুলেশন’। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। যেমন_ নির্বাচিতদের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত আছেন ৩২.৩৮ শতাংশ এবং ৭৪.৮৯ শতাংশ নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল। নির্বাচিতদের ১৩ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীন হত্যা মামলা বিচারাধীন এবং ২৯ জন ৩০২ ধারার মামলা থেকে অতীতে অব্যাহতি পেয়েছেন।

দলভিত্তিক নির্বাচনের কারণেই অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন এবং জয়ীও হয়েছেন। হুট করে দলভিত্তিক নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার কারণে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ করে কোনোরূপ আইনি বিধিবিধান করা হয়নি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দলের তৃণমূলের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন প্রদানের বিধানের অনপুস্থিতির ফলে ব্যক্তিবিশেষের (যেমন_ মন্ত্রী, এমপি, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রমুখের) মতামতের ভিত্তিতেই পৌর মেয়র পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি দলের সমর্থন পেয়েছেন। যেহেতু স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়নি, তাই মনোনয়ন, বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মাঠে নামেন।

হলফনামায় প্রদত্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী বিশেল্গষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচিত মেয়র এবং তাদের ওপর নির্ভরশীলদের মধ্যে মাত্র ৮.৪৯ শতাংশ কোটিপতি, যদিও এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ অনেক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেই তথ্য গোপনের অভিযোগ বিরাজমান। অপরদিকে, ৫০.৬০ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি নির্বাচিত প্রার্থীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার নিচে বলে তারা দাবি করেছেন। তবে অনেক প্রার্থীই হলফনামায় তাদের স্থাবর সম্পত্তির মূল্য উলেল্গখ করেননি। মাত্র ৩৬ শতাংশ মেয়র ও তাদের ওপর নির্ভরশীলদের ঋণ রয়েছে।
নির্বাচিত মেয়রদের মাত্র ২৭.৫৩ শতাংশ কর প্রদান করে থাকেন। তিন লাখ টাকা কিংবা এর ওপর আয় এমন মেয়রের সংখ্যা ৫৩ জন। তিন লাখ টাকা আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা করের আওতায় আসবেন বলে আশা করা যায়_ যাদের মধ্যে ৪২ জন অর্থাৎ ৭৯.২৪ শতাংশ কর প্রদান করেন। তিন লাখ টাকা আয়সম্পন্ন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৭৮.৭২ শতাংশ এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ কর প্রদান করেন। অর্থাৎ করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও অনেকে কর প্রদান করেন না।

পরিশেষে, এটি সুস্পষ্ট যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং তা বিশেল্গষণ ও বিতরণ ভোটারদের সচেতন করতে সহায়তা করে। আর সচেতন ভোটাররাই সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন বলে আশা করা যায়। তবে প্রার্থীরা যাতে হলফনামার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সঠিক তথ্য সরবরাহ করেন তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যগুলো গভীরভাবে নিরীক্ষণ করে তথ্য গোপনকারী ও অসত্য তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠের ব্যবস্থা ভবিষ্যতে নিতে হবে। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে তাদের নির্বাচন বাতিল করারও উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই আমাদের রাজনীতি কলুষমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী এবং গণতন্ত্র কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।

এ ছাড়া প্রতিটি স্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। বর্তমানে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই। উলেল্গখ্য, আদালত ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে তাদের বাকস্বাধীনতা তথা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, কারণ ভোটাররা তাদের বাকস্বাধীনতা প্রয়োগ করেন ভোটের মাধ্যমে। তাই সংশিল্গষ্ট সবার এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে হবে।

পৌর নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অসারতা প্রমাণিত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। দলভিত্তিক নির্বাচনের ফলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা ঠকেছে_ তাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাররাও ঠকেছে, নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি (ৎধহমব ড়ভ পযড়রপব) সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। তাই ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন দলনিরপেক্ষ হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে।

সূত্র: সমকাল ১০ মার্চ, ২০১১

No comments:

Post a Comment