May 8, 2013

বিপর্যয় এড়াতে চাই দায়িত্বশীল রাজনীতি

সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শেষ হয়েছে। শোনা যায়, আনুষ্ঠানিক সংলাপ শীঘ্রই শুরু হবে। আমরা এর সফলতা কামনা করি। তবে সংলাপ সম্পর্কে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়, যার ফলাফলও সুখকর নয়। কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল স্যার নেনিয়ন স্টিফেনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সংলাপের অসফলতা আমাদেরকে ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬-এর প্রহসনের নির্বাচন উপহার দিয়েছিল। এর থেকে আরো আমরা পেয়েছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মতো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিপন্থি ও রাজনৈতিক দলের অসদাচারণ এবং নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতার সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার মতো একটি উদ্ভট পদ্ধতি, যা আমাদের রাজনীতিতে দায়িত্বহীনতার সমস্যাকে আরো প্রকট করেছে। আব্দুল জলিল-আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার সংলাপের ব্যর্থতা- বস্তুত সংলাপের নামে জাতির সাথে একটি নিষ্ঠুর মসকারা- আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে খাদে ফেলে দিয়েছে। দেশে জরুরি অবস্থা ডেকে এনেছে। আসন্ন সংলাপের বিফলতা আমাদের জন্য আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য। তাই সংলাপ সফল করতেই হবে- এতে ব্যর্থতার কোন অবকাশ নেই।


জাতির সামনে আজ অনেকগুলো দুরূহ সমস্যা এবং এগুলো সমাধানের জন্য যে জনকল্যাণমূখি রাজনীতি প্রয়োজন তা আজ অনুপস্থিত। বস্তুত আমাদের রাজনীতি চরমভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সংলাপের মাধ্যমে রগ্ন রাজনীতির সমস্যার সমাধান না হলে জাতিকে চরম মাশুল গুণতে হতে পারে। তৈরি পোশাক শিল্পে বিপর্যয়সহ অর্থনীতির চাকা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। দেশ উগ্রবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে এবং আমরা একটি অকার্যকর ও অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারি। রাষ্ট্র শাসনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। এর আলামত এরই মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের পর – নির্বাচন নিতান্তই জনগণের সম্মতিতে ক্ষমতা বদলের পদ্ধতি – একটি সার্বজনিন আকাঙক্ষা ছিল যে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করবে, সরকার ব্যক্তি ও গোষ্ঠি স্বার্থের পরিবর্তে জনকল্যাণে নিবেদিত হবে এবং তিনদলীয় জোটের যুক্ত ঘোষণা বাস্তবায়ন করবে। আরো আকাঙক্ষা ছিল যে, সরকার ও বিরোধীদল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করবে – রাজপথের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংসদে বসে সমস্যার সমাধান করবে- ফলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

সুশাসন মানে আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ, সমতা, ন্যায়পরায়ণতা ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। সুশাসন অর্জিত হওয়ার অর্থ বিকেন্দ্রিকরণ ও প্রশাসনের সকল স্তরে নাগরিকের কার্যকর অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিকরণ। এছাড়াও সুশাসনের মাধ্যমে ‘ভোটে’র অধিকারের সাথে সাথে মানুষের ‘ভাতে’র অধিকার তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে তাও কাম্য ছিল।

অনেকের আশা ছিল যে, পর পর কয়েকটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পর দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে। গণতন্ত্রকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগসহ কতগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করার এবং ‘আংশিকে’র পরিবর্তে ‘পূর্ণ’ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ, সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র,” আর এ গণতন্ত্রের জন্য শুধু প্রতিনিধিত্বশীল সংসদই নয়, সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠাও অপরিহার্য। এছাড়াও আশা করা হয়েছিল যে, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আমাদের প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হবে এবং এক ঝাঁক নুতন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। আরো আশা ছিল যে, সরকারি দল ও বিরোধী দল সর্বক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের চর্চা করবে।
দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদীয় পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ছাড়া তিন জোটের যুক্ত ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোন সরকারই তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নি। দুই নেত্রীর ব্যক্তিগত রেষারেষির সম্পর্ক, ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী দলের অসহযোগিতার কারণে নির্বাচিত সংসদও অকার্যকর হয়ে পড়ে। আবেগের দ্বারা তাড়িত হয়ে নবনির্বাচিত সরকার উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে। অনেকের ধারণা যে, উপজেলা পদ্ধতি বহাল থাকলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সঠিক ডায়াগনসিস করে সে সময়ে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের উদ্যোগ নিলে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ভিন্ন হতো।

নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের অভাবে গত দেড় দশকের নির্বাচিত সরকারের আমলে ক্ষমতা ও সম্পদ ক্রমাগতভাবে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং তা স্থায়ী করতে সহায়তা করে। কিছু ব্যক্তির হাতে সরকারি এবং দলীয় ক্ষমতার কুক্ষিগতকরণ আমাদের দেশে দুর্নীতি ও দুর্বত্তায়নকে সর্বব্যাপী এবং সর্বগ্রাসী করতে সহায়তা করেছে। লর্ড এক্টনের ভাষায়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দুর্নীতিকে নিরঙ্কুশ করে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যগণের অনেকেই ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণের ‘উপকার’ ভোগ করেন এবং দুর্নীতি-দৃর্বৃত্তায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

১৯৯১ সালের আরো দু’টি মোটামুটিভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেৰ নির্বাচন হলেও দেশে কার্যত নির্বাচনসর্বস্ব এবং স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিবর্জিত ‘একদিনের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচনের পরে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পরিণত হন সামন্ততান্ত্রিক প্রভূতে এবং জনগণ বিবেচিত হতে থাকে ‘ভেড়ার পালে’। একদিনের গণতন্ত্রের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিই ইজারাতন্ত্র – লুটপাট করার ইজারা প্রতিষ্ঠা। আর এ ইজারা বংশ পরম্পরায় টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টি হয় পরিবার বা আত্মীয়তন্ত্রের। ফায়দাবাজির মাধ্যমে অবশ্য লুটপাটের ইজারা উচ্ছিষ্ট অংশ শেয়ার করা হয় ‘নেতা-কর্মীদের’ মধ্যে। অনেকের মতে, তিন জোটের যুক্ত ঘোষণা অনুযায়ী, একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলে সম্ভবত এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

তবে লুটপাটের ইজারা যাতে কোনভাবেই হাতছাড়া না হয় সে জন্য কারসাজির মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল পূর্বনির্ধারিত করা জরুরি হয়ে পড়ে। এমন কারসাজি নগ্নরূপ ধারণ করে গত সরকারের আমলে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের সময়সীমা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান লংঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ, বিচারপতি আজিজদের মতো ব্যক্তিদেরকে বেআইনিভাবে নির্বাচনে কমিশনে মনোনয়ন, কমিশনের মাঠ পর্যায়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ প্রদান, প্রশাসনের সকল স্তরে দলীয় সমর্থকদের পদায়ন ইত্যাদি ছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ম্যানিপুলেশনের একটি নীল নকশার অংশ। বেলুন অতিরিক্ত ফুলালে যেমন ফেটে যায়, তেমনিভাবে বিগত সরকারের আমলের ম্যানিপুলেশনটি এমন অযৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যে, পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙ্গে পড়ে – আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খাঁদে পড়ে যায়, জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং ২২ জানুয়ারি, ২০০৭-এর একতরফা সম্ভাব্য নির্বাচন বাতিল করা হয়। তাই ১১ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখের ঘটনা একটি ‘আনসাসটেইনেবল’ বা অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবশ্যম্ভাবী পরিণতি বলেই আমাদের ধারণা।

উপরিউক্ত কেইস হিস্ট্রি থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জাতি আজ দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ গুরুতর ব্যাধির মূল কারণ হলো একের পর এক নির্বাচিত সরকারদের ক্ষমতার অপব্যবহার; অসৎ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ; অগণতান্ত্রিক, অস্বচ্ছ ও দ্বায়বদ্ধতাহীন রাজনৈতিক দল; দুর্বল ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন; অকার্যকর সংসদ; রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চার অভাব ইত্যাদি। আর এ ব্যাধির উপসর্গ হলো রাজনীতিতে দলবাজি, ফায়দাবাজি, চাঁদাবাজি ও সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ; ২২ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখের অনুষ্ঠেয় নির্বাচন বাতিল ইত্যাদি। জাতির এ ব্যাধি দুরারোগ্য হলেও নিরাময়যোগ্য, যদিও এর জন্য রেডিক্যাল সার্জারি আবশ্যক। চৌদ্দ দলের ১৫ জুলাই, ২০০৫ এবং ২২ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ঘোষিত ঘোষণা ও ‘অভিন্ন কর্মসূচি’তে এ সকল সমস্যার স্বীকৃতি এবং এগুলো নিরাময়ের প্রেসক্রিপশনও দেয়া হয়। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও সুস্পষ্ট সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

আসন্ন সংলাপে ক্যান্সার সমতুল্য মূল ব্যাধি – দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের – চিকিৎসার পথ বের করা হবে অত্যন্ত জরুরি। এ চিকিৎসার জন্য অবশ্য সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও কালোটাকার মালিক তথা দুবৃর্ত্তদের ন্যায়, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অবাঞ্চিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিরত রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে হবে অর্থাৎ চিহ্নিত ব্যাধির ওষুধ সেবন করতে হবে। একইসাথে রোডম্যাপ অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, এটি যেন নীল নকশার নির্বাচন না হয়। এজন্য সরকারের সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সদাচারণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তীকালে একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে সরকারের যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং ক্ষমতাসীনরা দলবাজি, ফায়দাবাজি, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকেন তাও নিশ্চিত করতে হবে। আর এসকল পরিবর্তনের মাধ্যমেই রাজনীতির গুণগত মানে পরিবর্তন সূচিত হবে। একইসাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ, জরম্নরি অবস্থা প্রত্যাহার, নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিও সংলাপের বিষয়বস্তু হওয়া আবশ্যক। এই সকল সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছাই হবে সংলাপের লক্ষ্য। আর এটি সম্ভব হবে যদি অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে প্রতিপক্ষ না ভাবে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে। ঐকমত্যে পৌঁছলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের কথা রাখতে হবে। অতীতে এ সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত এবং তার মাশুল আজ আমরা দিচ্ছি। তাই সংলাপের সিদ্ধান্তগুলো মনিটরিং-এর একটি পদ্ধতি বের করতে হবে। ইতিহাসে অবশ্য এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, ম্যাগনেকার্টা দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এর বাস্তবায়ন নিরীক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। তেমনিভাবে সংলাপের মাধ্যমে অর্জিত ঐকমত্যগুলো নজরদারির জন্য কয়েকজন সর্বাধিক সম্মানিত নাগরিকদেরকে নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যাদের কাজ হবে এগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে দেশবাসিকে নিয়মিতভাবে অবগত রাখা।

পরিশেষে, এটি জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন, আসন্ন সংলাপের ব্যর্থতার কোন অবকাশ নেই। সংলাপ ব্যর্থ হলে রাজপথ হবে সমস্যা সমাধানের স্থান এবং সংঘাত হবে এর মাধ্যম। আর যুক্তি ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে মিমাংসার পরিবর্তে এ সমাধান হবে ‘জোর-যার-মুল্লুক-তার’-এর সমাধান, যা স্থায়ী সমাধান নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের সমাধানের কোন অবকাশ নেই। আর এর মাধ্যমে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সমুন্নত হওয়ার পরিবর্তে তা পদদলিত হবে এবং যথেচ্ছাচার বা এনার্কির জন্ম দেবে। এমনই অবস্থা কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না, কারণ সংঘাত ও সহিংসতার ‘জিন’ একবার বোতল থেকে বেরিয়ে গেলে তা আর হয়তো বোতলবন্দি করা যাবে না। ফলে জাতি হিসেবে আমরা চরম বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হতে পারি।

তথ্য সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০ এপ্রিল ২০০৮

No comments:

Post a Comment