Jun 21, 2018

এবারের বাজেট কী বার্তা দিচ্ছে?

ব্যক্তি বা পারিবারিক ক্ষেত্রে বাজেট একটি নির্দিষ্ট সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব। কিন্তু একটি জাতির জন্য বাজেটের ভূমিকা আরও অনেক বড়। আয়-ব্যয়ের হিসাবের বাইরে এটি একটি অগ্রাধিকারেরও দলিল। তাই জাতীয় বাজেট ভবিষ্যতের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে। ৭ জুন জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা ২০১৮-১৯ সালের বাজেট কী বার্তা বহন করছে?

সার্বিকভাবে বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য বিনিয়োগ আবশ্যক। বিনিয়োগ আবশ্যক কল-কারখানা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে, যাতে কর্মসংস্থান হয়। বর্তমানে কর্মসংস্থান আমাদের জন্য একটি পর্বতপ্রমাণ সমস্যা। আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের মতো হলেও এ প্রবৃদ্ধি বলতে গেলে কর্মসংস্থানশূন্য। ফলে দেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা দুই কোটির ওপরে, যার অধিকাংশই তরুণ। আর স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই বেকার। উপরন্তু প্রতিবছর ২০ লাখের মতো তরুণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, যাদের কর্মসংস্থানের জন্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু অনেক দিন থেকেই আমাদের বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশের মধ্যে স্থবির হয়ে আছে।

তা হলে বুলেটেই মূলত ভরসা!

মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর ব্যবহার বর্তমানে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে, বিশেষত আমাদের তরুণদের মধ্যে। এর চোরাচালান একটি বিরাট ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। অনেকে এটিকে জীবন-জীবিকার উৎস হিসেবেও নিয়ে নিয়েছে। ফলে মাদক সমস্যার সমাধান আজ আমাদের জন্য অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’কে আমরা নীতিগতভাবে সাধুবাদ জানাই। তবে এ যুদ্ধে বুলেটকেই মূলত ভরসা করার আমরা তীব্র বিরোধিতা করি।

যে কোনো রোগের চিকিৎসা করতে হলে রোগের কারণ চিহ্নিত করতে হয়। মাদকের ব্যাধি থেকে মুক্ত হতে হলেও আমাদের এর পেছনের কারণ চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে আমরা রোগের পরিবর্তে রোগের উপসর্গ নিয়েই নিজেদের ব্যস্ত রাখব।

নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে

একটি নির্বাচনের মূল্যায়ন করতে হয় কতগুলো মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এগুলো হল- ১. ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কিনা, ২. যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন কিনা, ৩. ভোটারদের সামনে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প ছিল কিনা, ৪. ভোটাররা নির্বিঘ্নে অর্থাৎ কোনোরকম চাপ ও প্ররোচনামুক্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে কিনা, ৫. ভোট গণনা সতর্কতার সঙ্গে হয়েছে কিনা, ৬. পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য ছিল কিনা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আমরা শুনিনি। যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন। পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রধান দুটি দলের শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। ভোট গণনা সম্পর্কে আমরা কোনো প্রশ্ন শুনিনি। তবে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। প্রার্থীদের যে হলফনামা দাখিল করতে হয় তা নিয়ে অনেক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

As Gazipur and Khulna polls near, some concerns remain

Bangladesh is now on the election highway. Aside from the national election, seven city corporation elections are to be held this year. However, because of the ineptness of the Election Commission (EC), the elections of Dhaka North and South have already been postponed, in violation of the Constitution and taking away our voting rights. In the meantime, the schedules of Gazipur and Khulna city corporation elections have been declared, and they will be held on May 15. The results of these two elections would have a far-reaching significance not only for the two major parties—Awami League and BNP—but for the nation as well. The experiences of Gazipur and Khulna will also have important implications for the upcoming general election.

সিটি নির্বাচন নিয়ে নাগরিক ভাবনা

বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের মহাসড়কে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও এ বছর আরও সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে ১৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী ফলাফল শুধু দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের-আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্যই নয়, পুরো জাতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলা যাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে।

গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত আটটি সভায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের দেড় সহস্রাধিক নির্দলীয় ব্যক্তির সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়। এসব অনুষ্ঠানে আমি একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কি তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে? এ প্রশ্নের জবাবে প্রায় সবাই দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, উত্তর দিয়েছেন যে বিদ্যমান অবস্থায় তাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা দেখেন না।

Mar 26, 2018

স্বাধীনতার মাস: আমরা তোমাদের ভুলিনি

২৬ মার্চ, আমাদের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে অগণিত নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষকে হানাদার পাকিস্তানিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে, যার থেকে সূচনা হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের, যে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও দিনটি আমরা উদ্যাপন করব নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। বস্তুত, আজ পুরো বিষয়টিই যেন নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। অনেকে দিনটির মর্মার্থ যেন ভুলে গেছেন। ভুলে গেছেন কেন বা কী উদ্দেশ্যে মানুষ নিঃসংকোচে প্রাণ দিয়েছিল।

প্রবল জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের প্রায় নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে, যে স্বপ্ন আমাদের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেই স্বপ্ন হলো গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র তথা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, যাতে ‘সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার’-এর নিশ্চয়তা থাকে।

রাজনীতিতে নারীর অবস্থান কোথায়?

সম্প্রতি আমরা বহু ঘটা করে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছি। এই দিবস পালন করতে গিয়ে আমাদের কাছে আবারও সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে বাংলাদেশের নারীরা বহু ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও আমাদের সমাজে তাঁরা এখনো ব্যাপকভাবে বঞ্চিত, নিগৃহীত, নির্যাতিত ও অবহেলিত। এই বঞ্চনা ও নিগ্রহের অন্যতম কারণ হলো, সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাষ্ট্রীয় থেকে পারিবারিক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের ব্যাপক পশ্চাৎপদতা। আর এই পশ্চাৎপদতা কার্যকরভাবে অবসান করতে হলে প্রয়োজন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। তবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটি থেকে শুরু করে সংসদ ও প্রশাসনে নারী-পুরুষের অনুপাত দেখলেই তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিপাকে

জর্জ সান্তায়ানার একটি বহুল উচ্চারিত উক্তি—যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, তাদেরকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মাশুল গুনতে হয়। মানবসভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এর বহু দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। এর মূল কারণ, স্টিভ এরিকসনের মতে, ইতিহাসের অন্যতম শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে মানুষ সাধারণত শিক্ষা নেয় না, এর পরিণতি যত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মূল্য যত উচ্চই হোক। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসেও এর ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। এর একটি জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত হলো সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার-সম্পর্কিত মতবিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রধান দুটি দল-আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অব্যাহত ডিগবাজির অবস্থান।

ঢাকার নির্বাচন স্থগিতের সব দায় ইসির?

সাংবাদিক সোহরাব হাসান তাঁর ‘এই নির্বাচন কমিশন লইয়া কী করিব?’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রথম আলোতে (২০ জানুয়ারি ২০১৮) প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) কাউন্সিলর পদে নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করার পেছনে নির্বাচন কমিশনকে মূল ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মিজানুর রহমান খানও এ ব্যাপারে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন (প্রথম আলো, ২২ জানুয়ারি ২০১৮)। তবে ডিসিসির নির্বাচন স্থগিতের পেছনে কমিশনই কি একমাত্র ভিলেন? আদালতের স্থগিতাদেশ প্রদানের পূর্ববর্তী ঘটনাবলি পর্যালোচনা করলেই এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।

ঢাকা সিটির নির্বাচন: আইনি জটিলতা দূর হবে কীভাবে?

নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং নতুন সংযোজিত ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন সংযোজিত ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন। এ ছাড়া একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে দুই করপোরেশনের ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন। কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।

ঢাকা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’

What message did we get from Rangpur election?

The recent election of Rangpur City Corporation heralded the beginning of an important election cycle, which will end with the election for the 11th Parliament, to be held sometime at the end of 2018. Unless the government decides to hold a mid-term Parliament election, six other city corporation elections, including the mayoral election of Dhaka North, would be held in the meantime. However, the recently held Rangpur City election has special importance not only because it was the first in the cycle, but also because it was the first party-based mayoral election.

Now that the Rangpur election is over, some questions come up: How was the election? What message does it convey? What influence, if any, will it have on other upcoming elections?

রংপুর সিটি নির্বাচন কী বার্তা দিল

রংপুর সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সাইকেল শুরু হলো, যা শেষ হবে আগামী বছরের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়ে গেলে মাঝখানে ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচনসহ আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই চলমান নির্বাচনী সাইকেলের সূচনা করার এবং প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের কারণে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

কেমন হলো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন? এই নির্বাচন কী বার্তা বহন করে আনল আমাদের রাজনীতির জন্য? এর প্রভাবই বা কী হবে আগামী নির্বাচনগুলোর ওপর?

রংপুর সিটি নির্বাচন: কেমন প্রার্থী পেলাম?

২১ ডিসেম্বর ২০১৭ রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ আসন থেকে কাউন্সিলর পদে ২১২ জন, সংরক্ষিত আসন থেকে একজন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীসহ ৬৫ জন এবং সর্বমোট ২৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন্ন এই নির্বাচনে আমরা কেমন প্রার্থী পেলাম?

বরাবরের মতো প্রার্থীদের হলফনামায় প্রদত্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলার বিবরণী, আয়ের উৎস, সম্পদের বিবরণী, দায়দেনা এবং করসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তূলনামূলক চিত্র তৈরি করে আমরা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের উদ্যোগে ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করেছি। 

Will the EC live up to its mandate?

The Election Commission (EC) held a post-dialogue press briefing on October 26. At the briefing, the Chief Election Commissioner said that the commission must conduct elections in accordance with the laws made by the government. His statement, although significant, raises serious concerns.

A government is run by the representatives of political parties. In fact, political parties are created with the purpose of being voted to power, forming government, and then remaining in power, ideally to do public service. And this is the way it should be.

সরকার যেভাবে আইন করে নির্বাচন সেভাবেই!

গত ২৬ অক্টোবর আমাদের নির্বাচন কমিশন একটি সংলাপ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, সরকার যেভাবে আইন করে দেয়, নির্বাচন কমিশনকে সেভাবেই নির্বাচন করতে হয় (প্রথম আলো, ২৭ অক্টোবর ২০১৭)। সিইসির বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক।

আমরা জানি যে সরকার পরিচালিত হয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দ্বারা। রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যই ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সংগত।