Apr 13, 2017

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ: এ রোগের চিকিৎসা জরুরি

আমাদের স্বাধীনতার মাস, মার্চ মাসের শেষ দুই সপ্তাহে সারা দেশে অনেকগুলো নৃশংস জঙ্গিবাদী ঘটনা ঘটে গিয়েছে। গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে টানা ১৯ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারীসহ চার জঙ্গি এবং এক শিশু নিহত হয়। ১৮ মার্চ ঢাকায় র্যাবের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন এবং সেখান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আরেকজন পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা হেফাজতে মারা যায়। ১৮ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁওয়ে র্যাবের নিরাপত্তাচৌকিতে হামলায় এক আত্মঘাতী জঙ্গির মৃত্যু ঘটে। ২৪ মার্চ বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশিতে আত্মঘাতী হামলায় আরেকজন জঙ্গি প্রাণ হারায়।

নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ

বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি মহামান্য  রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কর্তৃক সাবেক সচিব জনাব কেএম নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক জেলা জজ কবিতা খানম এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী-কে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হয়েছে। আমরা নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাই। 
একই সঙ্গে পুরো জাতির স্বার্থে আমরা তাঁদের সফলতা কামনা করি। তাঁদের সফলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুজন-এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানেরও আশ্বাস জানাই। আশা করি, বিদায়ী রকিবউদ্দীন কমিশনের মতো তাঁরা আমাদের সহযোগিতা নিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।

বাংলাদেশ ও রাজনীতি: আন্তদলীয় ও অন্তর্দলীয় সহিংসতার বিপদ

রাজনীতিতে মতদ্বৈধতা, বিরোধ ও দ্বন্দ্ব থাকবেই। এমনকি রাজনীতির গতি-প্রকৃতি যেখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয় এবং মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐকমত্য বিরাজ করে, সেখানেও দ্বন্দ্ব-বিরোধ থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সহিংসতায় রূপ নেয়, যা নাগরিকদের জন্য চরম অকল্যাণ বয়ে আনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও দ্বন্দ্ব ও বিরোধ ব্যাপকভাবে বিরাজমান এবং অনেক ক্ষেত্রে এ দ্বন্দ্ব সহিংসতায় রূপ নেয়। আমাদের দেশে এমনকি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রাজনৈতিক ঐক্য অনুপস্থিত (যদিও বারবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া আমাদের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির লক্ষ্য, তাদের আচার-আচরণ ও কার্যক্রমে অনেক মিল রয়েছে), যার কারণেও দলগুলোর মধ্যে আন্তদলীয় সহিংসতা বিরাজমান।

Dangers of inter and intra party violence

There will be differences, divergence and conflict in politics. Even when the political scene is calm and consensus prevails, it is only natural that there will be a fair share of differences and debate. However, in many countries of the third world, these differences lead to violent conflict, placing the common people at risk. 
In Bangladesh, political differences are sharp and often lead to violent outbursts. There is a glaring lack of consensus among political parties, even on issues of national interest, though ironically the two major parties are similar in their power-centric politics and activities. 

নিরপেক্ষতা: চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে নির্বাচন কমিশন?

গত ৮ ফেব্রুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নবগঠিত কমিশন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেগুলোর কার্যকরভাবে মোকাবিলা তাঁদের সফল করবে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো: 
কমিশনারদের সংখ্যা: রকিবউদ্দীন কমিশনের আগে কোনো কমিশনেই তিনজনের বেশি সদস্য ছিলেন না এবং তিনজনও অনেক সময় একত্রে কাজ করতে পারেননি। তিনজনের মধ্যে সমন্বয় করা যত সহজ, পাঁচজনের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি দুরূহ। বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে আশা করি নবগঠিত কমিশন এ চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে।

নির্বাচন কমিশন: স্বচ্ছতাই উত্তম পথ

গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২৫টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ১২৫টি নামের মধ্য থেকে ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। তাদের পরবর্তী সভায় এই তালিকা থেকে আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর সর্বোচ্চ ১০ জনের নাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবে। 
আশা করা যায়, রাষ্ট্রপতি এই তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেবেন, তা না হলে অনুসন্ধান কমিটির উদ্দেশ্যই ভন্ডুল হয়ে যাবে। আমরা খুশি হতাম যদি কমিটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নাম প্রস্তাবের সুযোগ দিত। কারণ, নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, সব নাগরিকের বিষয়। সব নাগরিকই এতে অংশীজন। 

অনুসন্ধান কমিটির কাছে আমাদের প্রত্যাশা

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে মতবিনিময় করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর পক্ষ থেকে আমরা বহুদিন থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছি। হুদা কমিশনের সময়কালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব সংস্কার হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোর ক্ষেত্রেই আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ভূমিকা ছিল নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। ব্যক্তিগতভাবে এবিষয়ে আমি বহু লেখালেখিও করেছি।

আমি একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছ থেকে আমি যে চিঠি পেয়েছি তাতে বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে... মতবিনিময়’ করার অভিপ্রায় থেকে অনুসন্ধান কমিটি আমাদেরকে ডেকেছে। কিন্তু চিঠিতে কোনো এজেন্ডা দেওয়া নেই। তাই আমি নিশ্চিত নই কমিটি কোন বিষয়ে আমার মতামত শুনতে চাচ্ছে। আমি মিডিয়ার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি এবং লেখালেখি করি। এছাড়াও আমরা সুজন-এর পক্ষ থেকে অনেক গোলটেবিল বৈঠকের ও জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, যার রিপোর্ট মিডিয়ায় এসেছে। 

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন: বল এখন রাষ্ট্রপতির কোর্টে

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে নানা দাবির মুখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছেন। গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি সংলাপের শুভ সূচনা করেছেন। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সব দলের সঙ্গে তিনি সংলাপে বসেছেন।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বাইরেও সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ধরনের সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। সংবিধান সংশোধনও সংস্কার প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রায় সবাই আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগও সংসদে আইন পাস অথবা অধ্যাদেশ জারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যদিও তারা সময়ের স্বল্পতার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। বিএনপি সুস্পষ্টভাবে আইন প্রণয়নের দাবি না করলেও তারা এর বিরোধিতা করেনি।

Jan 11, 2017

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের মন্ত্রিসভা নাগরিকত্ব আইন ২০১৬-এর একটি খসড়া অনুমোদন করেছে, যা সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায় যে সংসদে খসড়াটি কণ্ঠভোটেই পাস হবে। কিন্তু এই খসড়াটি অপরিপক্ব এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর তুলনায় অত্যন্ত পশ্চাৎপদ। সর্বোপরি এটি আমাদের সংবিধান ও সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ (ইউডিএইচআর) এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অনসিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর (আইসিসিপিআর) মতো আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যে চুক্তিতে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে।
খসড়া আইনের ৪ ধারায় জন্মসূত্রে অর্জিত নাগরিকত্বের শর্তাবলি বিবৃত হয়েছে। অন্যদিকে ধারা ৫ (বংশসূত্রে নাগরিকত্ব), ৬ (প্রবাসীদের নাগরিকত্ব), ৮ (দ্বৈত নাগরিকত্ব), ৯ (সম্মানসূচক নাগরিকত্ব), ১০ (দেশীয়করণ সূত্রে নাগরিকত্ব), ১১ (বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব) এবং ১২-তে (ভূখণ্ড সংযোজন সূত্রে নাগরিকত্ব) ইচ্ছাসূত্রে নাগরিক হওয়ার বিধান আছে।

নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা কী বার্তা দিয়েছেন?

২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রায় ৭৯ হাজার ভোটে পরাজিত করেছেন। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের জনগণ ‘স্পোক লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’। তাঁরা ভোটের মাধ্যমে তাঁদের মতামত জোরালো ও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁরা আসলে কী বার্তা দিয়েছেন? নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন থেকে শিক্ষণীয়ই বা কী রয়েছে?
নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী ফলাফল থেকে আওয়ামী লীগ অবশ্যই উৎফুল্ল। আইভীর বিরাট বিজয় থেকে তাদের এই উপসংহারে পৌঁছাই স্বাভাবিক যে, তাদের দল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তাদের উন্নয়ন–প্রচেষ্টা জনগণকে কাঙ্ক্ষিতভাবে প্রভাবিত করেছে। বস্তুত, তারা এ নির্বাচনকে একটি ‘টেস্ট কেস’ বা জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবেই দেখতে চাচ্ছে, যে পরীক্ষায় তারা ভালোভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

Nov 28, 2016

ইউনিয়ন পরিষদ: নির্বাচনের পর এখন যা করণীয়

বেশ কয়েক মাস হলো প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক মনোনয়ন-বাণিজ্য, সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। উঠেছে নির্বাচন কমিশন, অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। তবে নির্বাচন নিয়ে অনেক বিতর্ক সত্ত্বেও নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলের এই স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ‘গঠিত’ হয়েছে, যা জাতির জন্য এক বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।

স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ‘গ্রাসরুট ডেমোক্রেসি’ বা তৃণমূলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে ‘ডেমোক্রেটিক ডেফিসিট’ বা গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা দূর হয়। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনেকগুলো অন্তর্নিহিত দুর্বলতা রয়েছে। জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিচর্চা, সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিতদের ‘অন্তর্ভুক্তকরণের’ অভাব ইত্যাদি হলো এসব সীমাবদ্ধতার অংশ। একটি শক্তিশালী তথা ক্রিয়াশীল স্থানীয় সরকারব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে দূর করতে পারে। ফলে যেসব সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনমানে প্রভাব ফেলে, সেগুলোর সমাধানে তারা কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

Nov 25, 2016

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: এই ফলাফল কি আসলেই অপ্রত্যাশিত?

১৯৪৮ সালের কথা। তখন সারা পৃথিবীতে সংবাদপত্রই ছিল একমাত্র গণমাধ্যম। সেবারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনের সন্ধ্যাবেলায় লেখা ‘ডিউই ডিফিটস ট্রুম্যান’ শিরোনামটি ৩ নভেম্বরের শিকাগো ডেইলি ট্রিবিউনে প্রকাশিত হয়। বাস্তবে ঘটেছিল তার উল্টো—তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানই ৩০৩-১৮৯ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ব্যবধানে নিউইয়র্কের গভর্নর টমাস ডিউইকে পরাজিত করেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পরদিন সংবাদপত্রের শিরোনামটি প্রদর্শন করে ট্রুম্যান কৌতুক করে বলেন, ‘আমি তো এ রকম শুনিনি।’ তাঁর এই তির্যক মন্তব্য সংবাদপত্রটিকে দারুণভাবে অপ্রতিভ করেছিল।
অনেকটা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। এই নির্বাচনের আগে, এমনকি নির্বাচন-পরবর্তী রাতের প্রথম প্রহর পর্যন্ত প্রায় সব গণমাধ্যমই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারি ক্লিনটনের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছিল। তবে সব পণ্ডিতকে ভুল প্রমাণিত করে বাস্তবে ট্রাম্পই হিলারিকে ৭২ ইলেকটোরাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয়-পরাজয় কি আসলেই অপ্রত্যাশিত?

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নাগরিক ভাবনা

আমাদের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ অর্থাত্ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করা আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। তবে সে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। বস্তুত গণতান্ত্রিক শাসনের প্রথম ও অতি আবশ্যকীয় পদক্ষেপ হলো— সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তথা ‘জেনুইন ইলেকশন’ বা সঠিক নির্বাচন করতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবেও অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ আমরা ‘সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ’ ও International Covenant on Civil and Political Rights-এ স্বাক্ষরদাতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আমাদের এসব আন্তর্জাতিক আইন এবং চুক্তিও মেনে চলতে হবে।

নির্বাচন কমিশন আইন করা হোক

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। ফলে এখনো হাতে প্রায় পাঁচ মাস সময় আছে। আমরা এখনই নতুন নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছি। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে হয়।


গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য নির্বাচন কমিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই যাঁরা নির্বাচন কমিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তাঁদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, সাহসিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁদের যোগ্যতার প্রতিফলন নির্বাচনের ওপর পড়বে। তাঁরা নিরপেক্ষ ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কারা নিয়োগ পাচ্ছেন সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সংবিধানের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে,  ‘(১) [প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া] বাংলাদেশে একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’

নির্বাচন কমিশন: অনুসন্ধান কমিটি হোক গ্রহণযোগ্য

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী, একজন নির্বাচন কমিশনারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ছাড়া বাকি চারজনের কাউকেই পুনর্নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তবে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী সব নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে তাঁদের চরম ব্যর্থতার কারণে, কাজী রকিবউদ্দীন কমিশনের কারোরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ অতি ক্ষীণ। তাই এই সম্ভাবনাই প্রবল যে, নতুন পাঁচজন ব্যক্তি কমিশনে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ফলে কমিশনের পুনর্গঠন নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
রকিবউদ্দীন কমিশন নিয়োগ পেয়েছে একটি অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। আমাদের মাননীয় আইনমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, এবারও আগের মতোই নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই আমাদের জানা দরকার, আগেরবার কীভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত ও কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।