Dec 6, 2018

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক

গত ২৮ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কাল ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন। বাছাইপ্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করা হবে। তাই বাছাইপ্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো।

বাছাইপ্রক্রিয়ায় অনেকগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হয়, যার একটি হলো মনোনয়নপত্রে ভুলত্রুটি। ছোটখাটো ত্রুটির জন্য, যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা যায়, মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় না। আরেকটি বিবেচনার বিষয় হলো মনোনয়নপত্রের অসম্পূর্ণতা। যেমন হলফনামা কিংবা আয়কর রিটার্নের কপি সংযুক্ত না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। এ ছাড়া মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব/সমর্থনকারীর যোগ্যতা তাঁরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার কি না এবং মনোনয়নপত্রে প্রার্থী ও প্রস্তাব/সমর্থনকারীর স্বাক্ষর সঠিক কি না। এসব বিষয়, বিশেষত হলফনামায় তথ্য গোপন করা অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। প্রার্থী অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক হলে সংসদ সদস্য হতে বা থাকতে পারবেন না। আমাদের সংসদ সদস্যদের কারও কারও বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়গুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরূপণ করা আবশ্যক।

Dec 1, 2018

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জরুরি কমিশনের নিরপেক্ষতা

সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। এ ঘোষণা আমাদেরকে আশাবাদী করেছে যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সব দলকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও শঙ্কা থেকে যায়- নির্বাচনটি কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে? এর ফলাফল কি গ্রহণযোগ্য হবে?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার পথে অনেকগুলো প্রর্বতপ্রমাণ বাধা রয়েছে। প্রথম বাধা হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।

আমরা দেখেছি যে, গত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে সরকার তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘরছাড়া করেছে, যাতে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে না পারে। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘খুলনা মডেল’র নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন

গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর আদালত খালেদা জিয়াকে যথাক্রমে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাঁর কারাদণ্ড ১০ বছরে উন্নীত করেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি কি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?

বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি... (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’

খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার যোগ্যতা নির্ভর করবে: (১) তাঁর ‘সেনটেন্স’ বা দণ্ড স্থগিত হয়েছে কি না; (২) তাঁর ‘কনভিকশন’ বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে কি না এবং (৩) সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।

সমঝোতাই সংকটের সমাধান

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপ। ১ নভেম্বর ১৪ দল ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরবর্তী এক সপ্তাহে ৭০টি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়। প্রথম সংলাপের মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য সমাধান না আসায় ৭ নভেম্বর এ দুই জোটের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ১৪ দল) মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় এই সংলাপ। যদিও দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোটের মধ্যে- যাদের মধ্যে ভয়াবহ বৈরী সম্পর্ক- সংলাপের উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করে তুলেছিল, কারণ আমরা বহুদিন থেকেই সংলাপ এবং এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সমাধানের দাবি করে আসছিলাম।

Who is ahead in electoral politics?

So far, ten parliamentary elections were held in Bangladesh, of which three—the 1988 election during the Ershad regime, the February 15, 1996 election under the BNP government, and the January 5, 2014 election under the Awami League-led Grand Alliance government—were one-sided. Though the other parliamentary elections were more or less competitive, the most acceptable were the four elections held under the neutral caretaker governments after 1990. These were held on February 27, 1991, June 12, 1996, October 1, 2001 and December 29, 2008.
Who won these four elections? Can we identify a pattern in these wins that could give us indications of the electoral strengths of different parties?

ভোটের রাজনীতিতে কে কতটা এগিয়ে

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১০ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি ছিল একতরফা: বিএনপি সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ দল অংশ নেয়নি। বাকি নির্বাচনগুলো মোটামুটি প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন। এ নির্বাচনগুলো ছিল যথাক্রমে: বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচন, বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০১ সালের নির্বাচন এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন।

এই নির্বাচনগুলোর কোনটাতে কারা জিতেছিল? এগুলো থেকে কোনো প্রবণতা কি খুঁজে পাওয়া যায়? এ ধরনের বিশ্লেষণ ভোট ও জোটের রাজনীতিতে নিয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।

Relevant laws for candidates running for Parliament

The 11th Parliamentary election is at our doorstep. The election schedule is expected to be declared at the beginning of November and the election to be held at the end of December. Even though formal electioneering will start in a few weeks, many potential candidates appear to be unaware of the relevant laws relating to candidatures for Parliament.
A potential candidate must be a voter in any constituency in Bangladesh, although the proposer and the seconder of a nomination must be voters of the relevant constituency. The candidate, his/her proposer or seconder must submit his/her nomination papers to the Returning Officer (RO) or Assistant Returning Officer, who will acknowledge their receipt, specifying the date and time. Candidates cannot submit nomination papers online, even though the Election Commission (EC) is reported to have recommended the amendment of the Representation of People Order, 1972 (RPO) for this purpose.

প্রার্থীদের যা জানা জরুরি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী কর্মকাণ্ড আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হওয়ার নিশ্চয়তা থাকলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান—এমন অনেক ব্যক্তিই নির্বাচনী বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবগতির জন্য নির্বাচনসংক্রান্ত কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিধিবিধান নিচে তুলে ধরা হলো।   

সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সম্ভাব্য প্রার্থীকে বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে, কিন্তু যে এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই এলাকার ভোটার হওয়া তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীকে অবশ্যই ওই নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে। প্রতিটি মনোনয়নপত্র প্রার্থী বা তাঁর প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করবেন, যিনি তারিখ ও সময় উল্লেখ করে প্রাপ্তিস্বীকার করবেন। এখন পর্যন্ত অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-তে নেই, যদিও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে বলে শুনেছি।

সব ভালোই ভালো নয়

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের ব্যাপক আপত্তির মুখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ পাস করেছে। আইনটি ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পর্বতপ্রমাণ বাধা সৃষ্টি করবে বলে অনেকেরই আশঙ্কা। আরও আশঙ্কা, আইনটি ডিজিটাল অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে প্রণীত হলেও এটি একটি কালাকানুন এবং এটির অপব্যবহার অনিবার্য, যেমন অপপ্রয়োগ হয়েছে ও হচ্ছে ২০০৬ সালে প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার। এটি সরকারের অন্যায় কাজের সমালোচনাকারীদের হয়রানির কাজে ব্যবহৃত হবে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক পরিসরকে ভয়ানকভাবে সংকুচিত করবে।

এসব আশঙ্কা সত্ত্বেও আমাদের সম্মানিত তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এটিকে ঐতিহাসিক আইন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, সব ভালোই ভালো নয়। আর প্রজ্ঞাবানদের মতে, ‘অল দ্যাট গ্লিটার্স ইজ নট গোল্ড’—চকচক করলেই সোনা হয় না।

আইনসিদ্ধতা, বৈধতা ও নৈতিকতা: সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগের ভিত্তি

রাজধানীতে ঘাতক বাসের চাপায় দুই সহপাঠীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে সৃষ্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। শুধু শান্তিপূর্ণই নয়, এর মাধ্যমে তরুণরা সড়কে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নিয়েছিল। আন্দোলনটি সরকারবিরোধীও ছিল না এবং সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেও এটি পরিচালিত হয়নি। তবুও এটির সমাপ্তি হয় সহিংসতা তথা পুলিশের অভিযানে এবং পুলিশের পাশাপাশি একদল অস্ত্রধারীর আক্রমণের মাধ্যমে। 
কিন্তু কেন সহিংসভাবে কচি-কাঁচাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটির সমাপ্তি ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে গত কয়েক বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। বিশ্নেষণ করতে হয় সরকারের বর্তমান অবস্থান, বিশেষত এর সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগের আইনসিদ্ধতা (legality), বৈধতা (legitimacy) এবং নৈতিকতা (morality)। 

A 'National Charter' to strengthen democracy

The recent “student agitation” not only demanded safe roads, but also raised our awareness regarding our state structure, characterised by corruption, repression and injustice. A weak state structure generally caters to coterie interests rather than the public interest—a glaring example of which is the transport sector. Transforming the state structure would require a set of all-encompassing deep reforms, which will in turn require a political settlement and unity among the political actors as reforms must reflect the will of the people.

We on behalf of SHUJAN: Citizens For Good Governance have been, for the past decade, promoting a “National Charter”, encompassing a set of far-reaching reforms for endorsement by politicians and other interested groups as part of a political settlement.

রাষ্ট্র মেরামতে চাই ‘জাতীয় সনদ’

সাম্প্রতিক কিশোর-তরুণ বিক্ষোভ শুধু নিরাপদ সড়কের দাবিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তারা আমাদের বিরাজমান দুর্নীতিগ্রস্ত, নিবর্তনমূলক ও অসম রাষ্ট্রকাঠামোর ‘মেরামতের’ও তাগিদ দিচ্ছিল। কারণ বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো যে সাধারণ নাগরিকের পরিবর্তে কোটারি স্বার্থই সংরক্ষণ করে, পরিবহন খাত যার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন কতগুলো সর্বব্যাপী গভীর সংস্কার। আর এমন সংস্কারের জন্য প্রয়োজন হবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য। কারণ, এসব সংস্কার হতে হবে ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি’।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে আমরা কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রস্তাবসংবলিত একটি ‘জাতীয় সনদ’ নিয়ে জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি, যা আমাদের রাজনৈতিক দল ও অন্য স্বার্থসংশ্লিষ্টদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস। জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো হলো:

১. কার্যকর জাতীয় সংসদ: জাতীয় সংসদকে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যাতে এটি নির্বাহী বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। সংসদ সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি আইন ও সাংবিধানিক নির্দেশানুযায়ী একটি ‘সংসদ ও সংসদ সদস্যদের অধিকার ও দায়মুক্তি আইন’ প্রণয়ন করা।সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকর করা।

কিশোর-তরুণ বিক্ষোভের মর্মকথা

ঘাতক বাসের চাপায় দুই সহপাঠীর করুণ মৃত্যুর প্রতিবাদে রমিজ উদ্দিন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে রাস্তায় নেমে এসেছিল ২৯ জুলাই। তারপর যেন অবিরত মিছিল শুরু হলো। নেতাবিহীন, পূর্বপরিকল্পনাহীন এত কচি-কাঁচা মুখের মিছিল এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। এই কিশোর-তরুণ বিক্ষোভ শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল ঘটনা। কিন্তু কী এই বিক্ষোভের মর্মকথা?

সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে গড়ে ওঠা কিশোর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তাদের প্রাথমিক নয় দফা দাবিকে ছাপিয়ে পরিবহন খাতের দুর্বৃত্তায়িত কাঠামো বদলানোতেই নিবিষ্ট হয়ে পড়েছে। বস্তুত তারা পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে যেন চ্যালেঞ্জ করে বসেছে। তাদের সর্বাধিক উচ্চারিত স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো একটি আন্দোলনে ব্যবহৃত হলো। স্পষ্ট করেই ফেস্টুনে লিখে নিয়ে এসেছে, ‘রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত’।

কে এই বদিউল আলম মজুমদার?

ঘটনাটি আইন-শৃঙ্খলাজনিত। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা। স্পট ছিল মোহাম্মদপুর। নৈশভোজের নিমন্ত্রণ ছিল বদিউল আলম মজুমদারের বাসায়। নিছক নৈশভোজ। বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের সৌজন্যে। রাতের নৈশভোজে আরও দু-তিনজন আমন্ত্রিত ছিলেন। সস্ত্রীক ড. কামাল হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দীন খান।

সেই রাতে হামলা হয়েছে মজুমদারের বাসায়ও। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ৩০/৪০ জন দুর্বৃত্ত অকস্মাৎ বার্নিকাটের গাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়ে। রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহর চলে গেলে এই দুর্বৃত্তরাই হামলা চালায় মজুমদারের বাসায়। এ সময় তার পুত্র মাহবুব মজুমদারও আহত হন। কিন্তু ঘটনার মূল বিষয় চাপিয়ে ড. মজুমদারকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই সেদিনের নৈশভোজের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনাটি কি? ড. মজুমদার এ নিয়ে সংবাদপত্রে দেয়া ব্যাখ্যয় স্পষ্ট করেছেন।

তিন সিটিতে কেমন প্রার্থী পেলাম

আগামী ৩০ জুলাই ২০১৮ রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিটি করপোরেশনের কার্যকারিতা বহুলাংশে নির্ভর করবে কেমন ব্যক্তিরা নির্বাচিত হন, যা আবার নির্ভর করে প্রার্থীদের যোগ্যতার ওপর। তিন সিটি করপোরেশনে আমরা কেমন প্রার্থী পেলাম?
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন, সর্বমোট ২১৭ জন; বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন, সর্বমোট ১৬০ জন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন, সর্বমোট ১৯৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন সিটিতে সর্বমোট মেয়র পদে মোট ১৯ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৮১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন; সর্বমোট ৫৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।