Jul 25, 2019

বাজেট ভাবনা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন। মোট বাজেটের পরিমাণ ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এটি একটি মেগাবাজেট। মোট বাজেট ১৯৭২-৭৩ সালের ৭৮৬ কোটি টাকার তুলনায় ৬৬৬ গুণ বেশি। এমনকি গত অর্থবছরের ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা বাজেটের তুলনায় এটি ১৩ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এই হার হবে আরও বেশি। এই বিরাট বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে। কারণ বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি, বরং ঐতিহাসিকভাবে এই হার নিম্নমুখী। তবে বাজেটের কত শতাংশ বাস্তবায়ন হলো-তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর বাস্তবায়নের মান অর্থাৎ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা কী অর্জন করতে পারলাম।

18 reforms that will change Bangladesh

During last year’s road safety movement, there was a demand raised by the student demonstrators that touched a chord with a wide cross-section of the population: “repair the state.” Their demand seems most fitting considering the controversies surrounding Bangladesh’s recent national election and the waves of corruption and mis-governance that are breaking on our shore every day. In particular, it is a call to fix our democratic deficits and governance failures.

In the last few months, we, on behalf of SHUJAN, held ten consultations around the country to formulate a reform package for Bangladesh including 18 suggestions aimed at “repairing the state”.

অর্থনীতিতে সুশাসন ফেরানো দরকার

আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন আমি তাঁর সতীর্থ ছিলাম। এ ছাড়া একই এলাকায় আমাদের জন্ম। প্রাক্তন সতীর্থ ও বন্ধু হিসেবে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন!

অর্থমন্ত্রী জাতিকে একটি মেগা বাজেট উপহার দিয়েছেন। ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটটি ১৯৭২-৭৩ সালের ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় ৬৬ হাজার ৪৬৪ শতাংশ বেশি। এমনকি গত অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় এটি ১৩ শতাংশ বেশি। বৃহৎ আকারের সবকিছুই সব সময় ভালো নয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেটেও সবকিছু ভালো নয়। বস্তুত তাঁর বাজেটে গুরুতর দুর্বলতা রয়েছে। রয়েছে সুশাসনের চরম ঘাটতি। সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ন্যায়পরায়ণতা। আরেকটি উপাদান হলো স্বচ্ছতা-জবাবদিহি তথা দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অনুপস্থিতি। আমার বন্ধুবর অর্থমন্ত্রীর বাজেটে ন্যায়পরায়ণতার ও দুর্নীতি রোধের কার্যকর উদ্যোগের ভীষণ অভাব রয়েছে। এ ছাড়া বছরের পর বছর স্বার্থান্বেষীদের স্বার্থে অনেক প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত রাখাও সুশাসনের পরিপন্থী।

অপমৃত্যু ঠেকাতে সুশাসনের বিকল্প নেই

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারির চুড়িহাট্টায় আগুনে ৭১ জনের মৃত্যুর শোক না কাটতেই ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে আবার ঘটে অগ্নিকাণ্ড, যাতে প্রাণহানি ঘটেছে ২৬ জনের। সড়কে প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছেই। আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে নুসরাতকে। একই সঙ্গে চলছে ধর্ষণ এবং ধর্ষণ সম্পর্কিত মৃত্যুর নজিরবিহীন রেকর্ড। কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগের খবর পত্রিকায় পাওয়া গেল গতকাল বুধবার। এসবই অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যু। এর সঙ্গে শাসন প্রক্রিয়ার ত্রুটিবিচ্যুতি বা চূড়ান্ত অর্থে অপশাসনের সম্পর্ক রয়েছে।

অপশাসনের বিপরীত হলো সুশাসন। আর এ দুটোর মূলে রয়েছে শাসন। শাসন হলো যেকোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থা ও উদ্যোগকে কার্যকর করার প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন। আর এ প্রক্রিয়ার অংশ হলো কতগুলো রুল বা বিধি-বিধান, মূল্যবোধ, পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ক্ষমতা। যখন রুল, মূল্যবোধ, পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সঠিক ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়, তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ ব্যত্যয় ঘটলেই অপশাসনের সৃষ্টি হয়। সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণ বিধি-বিধান ও মূল্যবোধ এবং পদ্ধতির ঘাটতি। অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা। অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার। কিংবা সবগুলোরই উপস্থিতি।

হলফনামা না অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার ভিত্তিতে আমরা প্রতিনিয়তই অনেক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখেছি। দেখেছি এসব তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দর্শক-পাঠকদের অনেক বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীদের প্রদত্ত হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ প্রথম আলোতে (৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) প্রকাশের পর ভোটারদের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর পাঠকের ৮৫টি মন্তব্য প্রকাশিত হয়, যার প্রায় সবগুলোই ছিল নেতিবাচক। তাই প্রার্থীদের হলফনামা প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে যেন একটি অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে, এগুলো ভোটারদের সামনে প্রার্থীদের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে এবং তাদের ‘ইনফর্মড ডিসিশন’ নিতে সহায়তা করতে পারছে না।

প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা আকারে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান, আয়ের উৎস, নিজেদের এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদ ও দায়দেনার তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের ক্ষমতায়িত করা, যাতে তাঁরা ভোটকেন্দ্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

স্থানীয় সরকার: শুধু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমদ সম্প্রতি ‘আগে সংস্কার চাই, পরে নির্বাচন’ শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন (প্রথম আলো, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮)। তিনি নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন। আমরাও মনে করি, নির্বাচনের পরিপূর্ণ সুফল পেতে হলে নির্বাচনের আগেই আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার আবশ্যক, যাতে এসব প্রতিষ্ঠান যুগোপযোগী ও কার্যকর হতে পারে।

আমাদের দেশে দুই ধরনের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান—গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকার। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের অন্তর্ভুক্ত। আর পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে নগর স্থানীয় সরকার। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলার পেছনে আকাঙ্ক্ষা ছিল মূলত ‘স্বশাসন’ প্রতিষ্ঠা। সে লক্ষ্যে বেঙ্গল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮৫ প্রণীত হয়। স্বশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘গ্রাসরুট ডেমোক্রেসি’ বা তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিসরের বিস্তার ঘটে।

কারা সাংসদ হলেন?

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে অনেক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও বাস্তবতা হলো যে এর মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে এবং কোনোরূপ বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে যা আগামী পাঁচ বছর বহাল থাকবে। এমনি বাস্তবতায় কারা নতুন সাংসদ হলেন, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেরই জানা আছে যে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষা, পেশা, মামলা, আয়, নিজের এবং নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়-দেনার তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়। এই রায় প্রাপ্তি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘সুজন’-এর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আমাদের নতুন ২৯৯ জন সাংসদের—যাঁদের মধ্যে ২৬৭ জন নৌকা প্রতীক নিয়ে মহাজোট থেকে, ২২ জন লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে এবং ৮ জন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সাংসদ হয়েছেন—ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারি।

The ball is in the PM's court

Marked by many questions, controversies and some degree of violence, the 11th parliamentary election took place on December 30. According to the Election Commission, the overall turnout was 80 percent, while it was less than 46 percent in the six constituencies where EVM was used. Six constituencies had the highest turnout rate of 99 percent.

The Grand Alliance had a “grand” victory in the election, winning 291 of the 299 constituencies where elections were held. By contrast, the opposition Jatiya Oikyafront alliance won only 8 seats. Given Bangladesh's political reality, such a devastating loss for Oikyafront is unusual, and creates serious questions in the minds of many observers about the quality of the election.

জাতীয় নির্বাচন ২০১৮: নিশ্চিত হোক সবার ভোটাধিকার

মনে হচ্ছে যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আমরা আবার সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি আশার সংবাদ। একানব্বই থেকে যে গণতন্ত্রের পথে আমরা যাত্রা করেছিলাম, তার বিকাশ বিঘ্নিত হয়েছে আমাদেরই রাজনৈতিক অবিমৃশ্যকারিতায়। ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকারিতা অর্জন করতে পারেনি। এমনকি আমাদের ভোটাধিকারও নিশ্চিত হয়নি।

সব দলের অংশগ্রহণই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণের একমাত্র মাপকাঠি নয়। সব রাজনৈতিক দলের সম-অংশগ্রহণের জন্য মুক্ত ও অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি বড় নির্ণায়ক। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হলো দল-মত-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ই যে কারসাজিমুক্ত, সে সম্পর্কে জন–আস্থা। অর্থাৎ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি হচ্ছে এই ‘পাবলিক পারসেপশন’। জনগণের মধ্যে যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও পরিবেশ নিয়ে আস্থার ঘাটতি থাকে, তাহলে আইনগতভাবে বৈধ এমনকি সুষ্ঠু নির্বাচনও গ্রহণযোগ্যতা লাভে ব্যর্থ হয়। যার ফলাফল সাধারণত উৎসবের পরিবর্তে আতঙ্ক এবং দ্বন্দ্ব-হানাহানি ও অশান্তি।

ইশতেহার শুধু কথার কথা না হোক

নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ একটি মৌসুমি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শীতের মৌসুমে যেমন দেশে মৌসুমি পাখি আসে এবং শীতের পর চলে যায়, সেভাবে নির্বাচনের মৌসুম এলে নির্বাচনী ইশতেহারের আবির্ভাব ঘটে এবং নির্বাচনের পর ইশতেহারও যেন হারিয়ে যায়। তবু নির্বাচনী ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে সচেতন নাগরিকেরা রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচিত হতে এবং তাঁদের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দল/জোটগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, তাতে বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। আছে অনেক চটকদার বিষয়ও। দেখানো হয়েছে অনেক আশার আলো। যেমন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গীকারের মধ্যে আছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সৃষ্টি।

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই


গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ বলেছিলেন, 'আমাদের গ্রামে প্রবাদ আছে গরিবের বউ নাকি সবারই ভাউজ (ভাবি)। রাজনীতিও হয়ে গেছে গরিবের বউয়ের মতো। যে কেউ যে কোনো সময় ঢুকে পড়তে পারেন, বাধা নেই।' আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনের দিকে তাকালে এ কথা অস্বীকার করার অবকাশ নেই, কারণ আমাদের রাজনীতি আজ বহুলাংশে অরাজনীতিবিদদের করায়ত্তে। আরও ভেঙে বললে, আমাদের রাজনীতির নাটাই আজ বলতে গেলে ব্যবসায়ীদের হাতে।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এবং এখন তা মূলত তাদের দখলে চলে গেছে। আমাদের সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব ১৯৫৪ সালে মাত্র ৪ শতাংশ হলেও ১৯৭৩ সালে তা এসে দাঁড়ায় ১৩ শতাংশ, ১৯৭৯ সালে ৩৪ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৪৮ শতাংশ, ২০০১ সালে ৫১ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ৬৩ শতাংশ।

Jul 24, 2019

নির্বাচনী ইশতেহার: নাগরিক প্রত্যাশা

আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিটি বড় দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ একটি প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ রেওয়াজ যেন বর্তমানে একটি অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার করার ব্যাপারে যত আগ্রহী, তা রক্ষার ব্যাপারে ততটাই যেন অনাগ্রহী, যদিও নির্বাচনী ইশতেহারকে দল ও ভোটারদের মধ্যকার একটি লিখিত চুক্তি বলে ধরে নেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’কে তাদের অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যেগুলো অর্জনে গত পাঁচ বছরে খুব একটা অগ্রগতি লক্ষ করা যায় না। তবু নির্বাচনী ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে ভোটাররা রাজনৈতিক দলের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।

Dec 6, 2018

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক

গত ২৮ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কাল ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন। বাছাইপ্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করা হবে। তাই বাছাইপ্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো।

বাছাইপ্রক্রিয়ায় অনেকগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হয়, যার একটি হলো মনোনয়নপত্রে ভুলত্রুটি। ছোটখাটো ত্রুটির জন্য, যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা যায়, মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় না। আরেকটি বিবেচনার বিষয় হলো মনোনয়নপত্রের অসম্পূর্ণতা। যেমন হলফনামা কিংবা আয়কর রিটার্নের কপি সংযুক্ত না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। এ ছাড়া মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব/সমর্থনকারীর যোগ্যতা তাঁরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার কি না এবং মনোনয়নপত্রে প্রার্থী ও প্রস্তাব/সমর্থনকারীর স্বাক্ষর সঠিক কি না। এসব বিষয়, বিশেষত হলফনামায় তথ্য গোপন করা অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। প্রার্থী অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক হলে সংসদ সদস্য হতে বা থাকতে পারবেন না। আমাদের সংসদ সদস্যদের কারও কারও বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়গুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরূপণ করা আবশ্যক।

Dec 1, 2018

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জরুরি কমিশনের নিরপেক্ষতা

সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। এ ঘোষণা আমাদেরকে আশাবাদী করেছে যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সব দলকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও শঙ্কা থেকে যায়- নির্বাচনটি কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে? এর ফলাফল কি গ্রহণযোগ্য হবে?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার পথে অনেকগুলো প্রর্বতপ্রমাণ বাধা রয়েছে। প্রথম বাধা হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।

আমরা দেখেছি যে, গত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে সরকার তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘরছাড়া করেছে, যাতে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে না পারে। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘খুলনা মডেল’র নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন

গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর আদালত খালেদা জিয়াকে যথাক্রমে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাঁর কারাদণ্ড ১০ বছরে উন্নীত করেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি কি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?

বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি... (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’

খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার যোগ্যতা নির্ভর করবে: (১) তাঁর ‘সেনটেন্স’ বা দণ্ড স্থগিত হয়েছে কি না; (২) তাঁর ‘কনভিকশন’ বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে কি না এবং (৩) সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।