Dec 16, 2017

16TH AMENDMENT VERDICT: Have the critics read the judgment?

The story of the hawk snatching one's ears is well-known. As the story goes, the "victim" becomes so paranoid by a rumour that s/he does not even check its veracity. Unfortunately, the same is happening regarding our Supreme Court's recent unanimous judgment declaring the 16th Amendment unconstitutional. Many ruling party leaders and their beneficiaries appear to be hell-bent on establishing that the Hon'ble Chief Justice (CJ) has, in his judgment, belittled Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and committed contempt of our Parliament—without even reading the judgment.

এসডিজি : কমিউনিটি-ভিত্তিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা দরকার

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে মূলত মানুষের সৃজনশীল উদ্যোগ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত উপায়ে ও স্বল্প খরচে অনেকগুলো সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এতে সহায়তা করেছে। এতে সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) তুলনামূলকভাবে উচ্চাভিলাষী এবং এর অর্জন হবে অনেক দুরূহ কাজ। উপরন্তু বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সংঘাতময় রাজনীতি ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতাসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই গতানুগতিক পদ্ধতিতে এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে না।

সীমানা পুনর্নির্ধারণে জটিলতা হতে পারে

বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন, ১৯৭৬ অনুযায়ী সর্বশেষ আদমশুমারির পর এবং প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণের অন্যতম লক্ষ্য হলো নির্বাচনী এলাকাসমূহের মধ্যে ভোটার সংখ্যায় যতটুকু সম্ভব সমতা আনা, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে। খসড়াটি আইনে পরিণত হলে নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রহিত হবে এবং আগামী সংসদ নির্বাচন ২০১৩ সালের নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। কাকতালীয়ভাবে ১৮ অক্টোবর ২০১৭ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আর সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকার যেভাবে আইন করে নির্বাচন সেভাবেই!

গত ২৬ অক্টোবর আমাদের নির্বাচন কমিশন একটি সংলাপ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, সরকার যেভাবে আইন করে দেয়, নির্বাচন কমিশনকে সেভাবেই নির্বাচন করতে হয় (প্রথম আলো, ২৭ অক্টোবর ২০১৭)। সিইসির বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক।

আমরা জানি যে সরকার পরিচালিত হয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দ্বারা। রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যই ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সংগত। বস্তুত ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করার লক্ষ্যেই রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়। তবে যে সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুপস্থিত, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্বল এবং নাগরিক সমাজ দুর্বল বা ক্ষমতাসীনদের অনুগত, সে সমাজে ক্ষমতাসীন সরকার নগ্ন কোটারি স্বার্থে আইনকানুন ও বিধিবিধানে পরিবর্তন এনে এবং প্রশাসনিক যন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়।

ELECTION 2018: Will the EC live up to its mandate?

The Election Commission (EC) held a post-dialogue press briefing on October 26. At the briefing, the Chief Election Commissioner said that the commission must conduct elections in accordance with the laws made by the government. His statement, although significant, raises serious concerns.

A government is run by the representatives of political parties. In fact, political parties are created with the purpose of being voted to power, forming government, and then remaining in power, ideally to do public service.

Aug 29, 2017

সমালোচকেরা কি রায়টি পড়েছেন?

আমাদের সমাজে চিলে কান নিয়ে যাওয়ার গল্পটি বহুল প্রচলিত। গল্পটিতে চিলে কান নিয়ে গেছে—এ কল্পনায় কানের মালিক হা-হুতাশ করতে থাকে, কিন্তু আসলেই কি চিল কান নিয়ে গেছে, তা হাত দিয়ে একবার পরীক্ষা করেও দেখে না। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় নিয়েও যেন তেমনটিই ঘটছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বস্তরের অনেক নেতা-কর্মী এবং তাদের একদল সুবিধাভোগী সমর্থক যেন উঠেপড়ে লেগে গেছেন এটি প্রতিষ্ঠা করতে যে মামলার রায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করে দেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি আমাদের মহান জাতীয় সংসদকে অবমাননা করেছেন। আমার আশঙ্কা যে এসব ব্যক্তি যেন চিলে কান নেওয়ার গল্পই ফাঁদছেন।

এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!

১০ আগস্টের প্রথম আলোর প্রধান শিরোনামটি পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। শিরোনামটি ছিল ‘জনগণের নয়, বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে বাস করছি’। এটি আমাদের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সম্পর্কে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রদত্ত বক্তব্যের সারাংশ।

বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্য থেকে আমি যা বুঝেছি তা হলো, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার কথা জনগণের সম্মতিতে, তাঁদের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টোটা চলছে, বিচারপতিদের নির্দেশেই বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর এ বক্তব্য পড়তে গিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্যের সেই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি আমার মনে পড়ে যায়, এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!

EC must work to gain credibility among citizens

We commend the Election Commission for initiating dialogues with the stakeholders although it is not legally obliged to do so. We hope that the dialogues are not held for their own sake, and that the commission will take the recommendations of the stakeholders seriously. Most of all, we hope it will forcefully implement the existing laws to ensure free, fair and credible elections.

Article 119 of our Constitution mandates that the EC will hold parliamentary elections. Elections necessarily mean free, fair and credible elections. Elections also mean competitive elections, as “to elect” implies choosing from alternatives.

নির্বাচন কমিশনের যা করা উচিত

আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুসরণে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানাই। গত ৯ মে কমিশনের কাছে আমরা সুজনের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ দিয়েছি। আমাদের সুপারিশকৃত বিষয়গুলোর কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধনসহ আবারও তুলে ধরছি। আশা করি, সংলাপগুলো নিতান্তই লোকদেখানো হবে না এবং কমিশন আমাদের দেওয়া এবং সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবে। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন
বাংলাদেশের সব নির্বাচনেই সেনাবাহিনী ভূমিকা রেখেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছিল, সেনাবাহিনী আইনগতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাই এবারও সেনাবাহিনীর সে ভূমিকা পালনে কারও আপত্তি করা যৌক্তিক হবে না।

Can the CEC take unilateral decisions?

On July 16, 2017, the Election Commission (EC) arranged a news conference to announce its electoral roadmap. According to a Prothom Alo report (July 17, 2017), when asked at the news conference about the recent transfer of EC officials due to the decisions of the Chief Election Commissioner (CEC) and the Secretary, ignoring other Commissioners, the CEC said, "Mr. Talukdar [Election Commissioner Mahbub Talukdar] knows this better. This is Mr. Talukdar's product." The CEC claimed that transferring officials is within the jurisdiction of the EC secretariat and there is no need to coordinate with the Commissioners in this matter. The Commissioners do not even have to know about it.

সিইসির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংবিধান পরিপন্থী

নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ উপলক্ষে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বক্তব্য দেন। প্রথম আলোর (১৬ জুলাই ২০১৭) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে অন্য কমিশনারদের না জানিয়ে সিইসি ও সচিব মিলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হুদা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা তো তালুকদার (নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার) সাহেব জানেন। এটা তালুকদার সাহেবের প্রোডাক্ট।’ সিইসি দাবি করেন, কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এখানে কমিশনারদের সঙ্গে সমন্বয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো কমিশনারের জানারও দরকার নেই।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ ও জনপ্রত্যাশা

আমরা গণমাধ্যমের সূত্রে জেনেছি, নির্বাচন কমিশন খুব শিগগিরই সংলাপ শুরু করবে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, প্রথমেই তারা সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ তৈরি করেছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। কারণ নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপের মধ্যে সংলাপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুতরাং এ সংলাপ নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপেরই অংশ।

নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপটি তৈরি করেছে, এটি আগামী নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রশংসনীয় এবং আমরা সবাই এটিকে স্বাগত জানাই। কারণ নির্বাচনী রোডম্যাপটি হল কর্মপরিকল্পনামূলক। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

Can Bangladesh repeat its 'development surprise'?

In the era (2000-2015) of the Millennium Development Goals (MDGs), Bangladesh had achieved outstanding success in both poverty eradication and human development. Bangladesh's success in both economic and social fronts bewildered many astute observers, including Professor Wahiduddin Mahmud, who called it a “development surprise”. Others called it the “Bangladesh paradox” or “Bangladesh puzzle”.
Bangladesh's achievements surprised many observers because the country faced many daunting challenges.

Aug 28, 2017

উন্নয়ন চমক ও এসডিজি যুগে বাংলাদেশ

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজির যুগে (২০০০-২০১৫) বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানব উন্নয়নে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এমন সফলতা অনেক পর্যবেক্ষকের কাছেই অবিশ্বাস্য চমক বলে মনে হয়েছে। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এটিকে  ‘বাংলাদেশ ধাঁধা’ বলছেন।

আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সফলতা অনেকের কাছে চমক বলে মনে হয়েছে। কারণ, জাতি হিসেবে আমরা অনেক গুরুতর প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন।

এ যেন এক গোঁজামিলের বাজেট!

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার একটি মেগা বাজেট উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। এই বরাদ্দের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা, যার ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা বা জিডিপির ৫ শতাংশ। আর এই ঘাটতি পূরণ হবে ব্যাংকঋণ থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ থেকে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশই ঋণ থেকে আসবে। উল্লেখ্য, এডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় হবে ছয়টি অগ্রাধিকার প্রকল্পে।